আইনশৃঙ্খলার দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ছিল ২০২৫ সাল। হত্যা, চুরি-ডাকাতি, অপহরণের মত ঘটনা অন্তবর্তী সরকারের পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে বারবার।
২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসেই সারাদেশে তিন হাজার ৫০৯টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১১জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬৮৫টি এবং ঢাকা মহানগর এলাকায় ৩৫২টি খুনের মামলা হয়েছে। সরকারের দাবি অনুযায়ী, এই উল্লম্ফনের একটি বড় কারণ হলো বিগত ১৬ বছরে চাপা পড়া অনেক হত্যাকাণ্ড এই বছর নতুন করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
২০২৫ সালের শুরুতে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। রাজপথ ও জনপদে ছিল ডাকাতদের অবাধ বিচরণ। জানুয়ারি ২০২৫-এ ডাকাতির মামলা হয়েছে ১৭১টি, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১৪টি। আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে ৪৮৮টি ডাকাতি এবং এক হাজার ৩১৪টি দস্যুতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বছরের প্রথম মাসেই ২৪২টি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যা বিগত ছয় বছরের মধ্যে যেকোনো এক মাসের জন্য সর্বোচ্চ।
২০২৫ সালে অপহরণের ঘটনা বিগত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বছরের প্রথম ৮ মাসেই ৭১৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত মোট এক হাজার ৬৫০টি অপহরণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা ২০২৫ সালে প্রকট রূপ ধারণ করে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র- আসক`র মতে, ২০২৫ সালে গণপিটুনিতে অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছে। অন্য একটি সংস্থার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি`র তথ্যমতে, এই সংখ্যা ২১৬ জন পর্যন্ত হতে পারে।
সারাদেশের মধ্যে ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের মধ্যে ঢাকা ২৭ জন, গাজীপুর ১৭ জন ও নারায়ণগঞ্জ ১১ জন। অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল ও নোয়াখালী উল্লেখযোগ্য।
গণপিটুনির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ছিল চুরির সন্দেহ, ছিনতাই, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, ডাকাতি, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং ধর্মীয় অবমাননার গুজব।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশব্যাপী 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' শুরু করে যৌথবাহিনী। এই অভিযানে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির তুলনায় এটা ছিল যথেষ্ট অপ্রতুল।
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রত্যাশার আলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহনী কাজ করেনি বলে মনে করে সাধারণ মানুষ। তাই ২০২৫ সালে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধগুলো পূর্বের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিস্থিতিকে 'চরম অরাজকতা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। পুলিশের অনুপস্থিতি বা নিষ্ক্রিয়তা এবং আইনের শাসনের অভাবকে এই ভয়াবহতা বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে তারা। এমএসএফ-এর মতে, এই ধরনের ঘটনা জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!