চাঁদাবাজি
আটক ৪ চাঁদাবাজ।   ছবি: সংগৃহীত

কাঁচা বাজার ও লেগুনা গাড়ি থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কর্মীসহ ৪ শিক্ষার্থীকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে রাজধানীর আজিমপুর এলাকায় সেনাবাহিনী তাদের আটক করে লালবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী চার জনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করে। তারা সবাই ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী।

আটককৃতরা হলেন- ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুর আমিনের ঘনিষ্ঠ সহচর মাসুদ রানা, নির্দেশদাতা শাফায়েত আলী রুদ্র, ঢাকা কলেজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বায়জিদ, আবির।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ইডেন কলেজের সামনের এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতে আসেন তারা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে একবার তাদের ধরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়ে। এরপর সোমবার অভিযোগকারী ব্যবসায়ীদের মারধর করে এবং চাঁদা চায়। এ সময় ব্যবসায়ীরা মিলে প্রতিবাদ করে। তাদের গণধোলাই দেওয়ার আশংকার সৃষ্টি হলে সেনাবাহিনী গিয়ে সেখান থেকে তাদের আটক করে।

ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘আবির ও মাসুদসহ কয়েকজন রোববার আজিমপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তরকারি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিতে আসে। বিষয়টি জানতে পেরে আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, ‘ভাই, আপনাদের সমস্যা কী?’ জবাবে তারা বলেন, ‘আমরা নিউমার্কেট ও আজিমপুর এলাকা নিয়ন্ত্রণ করি, এটাও নিয়ন্ত্রণ করবো। সোমবার আবার তারা ইডেন কলেজের সামনে এসে আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সাত-আটজন মিলে আমাকে গণপিটুনি দেয়। মারধরের সময় পানি চাইলে তারা বলে, ‘তোকে পানি দেব না, প্রসাব দেব তুই আগে টাকা দে।”

ভুক্তভোগী আরও বলেন, ঘটনার সময় শাফায়েত আলী রুদ্র দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছিল। পরে মুরাদ নামে একজন এসে তাদের ছাড়ানোর চেষ্টা করে। প্রথমে অভিযুক্তরা নিজেদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র পরিচয় দিয়েছিল, পরে আর কোনো পরিচয় দেয়নি। তারা ঢাকা কলেজে রাজনীতি করে বলে জানা গেছে।

এমকে/আরটিএনএন