পাকিস্তান, বিমান বাহিনী
জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।   ফাইল ছবি

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান তার সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরের সময় দেশটির বিমান বাহিনীর সঙ্গে ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে সম্ভাব্য আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি, তবে বাংলাদেশের আগ্রহের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে আসে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান বাহিনীকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। খবর বিবিসি বাংলার।

পাকিস্তান আইএসপিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই যুদ্ধবিমানটি ৪.৫ প্রজন্মের মাল্টি-রোল বিমান, যা শক্তিশালী রাডার ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এই যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। হালকা ওজনের এটি ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। পাকিস্তান ইতোমধ্যে সম্ভবত আজারবাইজান, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়া-তে বিক্রি করেছে এবং ইরাক, লিবিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ সরকার বা বিমান বাহিনী এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পাকিস্তান জানিয়েছে, বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও মহাকাশ খাতসহ কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল পাকিস্তান বিমান বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল আইএসআর, ইন্টিগ্রেটেড এয়ার অপারেশন্স সেন্টার, পাকিস্তান এয়ার ফোর্স সাইবার কমান্ড এবং ন্যাশনাল অ্যারোস্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক। তারা পাকিস্তানের মনুষ্যবিহীন কার্যক্রম, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, সাইবার ও স্পেস সক্ষমতা সম্পর্কেও ধারণা পেয়েছেন।

জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ১৯৯৫ সালে চীনের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে পাকিস্তানে তৈরি হওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রথম পরীক্ষামূলক মডেল ২০০৩ সালে তৈরি হয় এবং ২০১০ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে যোগ হয়।

বিশেষত্ব হলো এটি পাকিস্তানের ভেতরে তৈরি, নতুন ব্লক থ্রি সংস্করণে উন্নত রাডার ও আধুনিক অস্ত্র সংযোজন করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিমান হালকা ওজনে উচ্চ কার্যক্ষম, আকাশ-ভূমি উভয় ধরনের আক্রমণে সক্ষম এবং সীমিত বাজেটের দেশগুলোর জন্য বাস্তবসম্মত বিকল্প হতে পারে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের জেএফ-১৭ দাম, নমনীয়তা ও সহজলভ্যতার কারণে ক্রেতাদের কাছে পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয়।

এমকে/আরটিএনএন