আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে গণভোটে ‘হ্যা’ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ জনগন নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। রবিবার ১৮ তারিখে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘুরে এমনটা দেখা যায়।
বিগত সময়ের সকল তিক্ত অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সরকারের সংস্কার কমিশন এই গণভোটের প্রস্তাবনা দেয়। জনগণ যেন তার অধিকার বুঝে পায় এবং সরকার তার ইচ্ছা মতো জনগনের অধিকার খর্ব ও কোন অন্যায় অবিচার না করতে পারে, এটাই প্রধান লক্ষ্য।
গণভোটের প্রস্তাবনায় ১২টি দফার কথা বলা হয়েছে:
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে।
২. সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
৩. সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
৪. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৫. যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
৬. সংসদের নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
৮. দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
৯. মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে।
১০. দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধিকে রাস্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
১১. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
১২. রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষারও সাংবিধানিক স্বীকৃতি হবে।
এই অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও সকল প্রকার সরকারি বিড়ম্বনার সমাধান হবে বলে আশা করছে সংস্কার কমিশন।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ফেসবুক পেজে এই ইশতেহার দেওয়া হয়েছে এবং বলা হয়েছে “‘হ্যা’ ভোট দিলে উপরের সব কিছু পাবেন। ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না।”
‘হ্যা’ ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। গেলো সোমবার জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, "আমরা সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা 'হ্যাঁ' ভোটের পক্ষে।" এবং তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ‘হ্যা’ ভোটের প্রচারনা চালানো আমাদের কাজ না, জনগণ যেটা চাইবে তাই হবে। ঠাঁকুরগাওয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,"গণভোটের প্রচারণা চালানো বিএনপির দায়িত্ব না। জনগণের দায়িত্ব ভোট দেওয়া, 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দেওয়া। জনগণ যা করে তাই হবে।" বিএনপির ৩১ দফায় সংস্কারের কথা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আইন বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিকের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিত ছিলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মতো। কিন্তু তেমনটি দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন- “গণভোটে হ্যাঁ'র পক্ষে সরকার ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তার অর্থ হলো সরকার একটা পক্ষ নিয়ে নিচ্ছে। সরকার যদি একটা অবস্থান নিয়ে নেয় তাহলে আমরা যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলি তা এখানে থাকছে না। সরকারের এর থেকে বিরত থাকাই নৈতিকভাবে অনেক বেশি কাম্য”।
পরবর্তীতে কেউ আদালতে গিয়ে সরকারের এ কর্মকাণ্ড চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলেও সরকারকে সতর্ক করেন শাহদীন মালিক।
অন্যদিকে ‘হ্যা’ ভোটের সমর্থনে ক্যাম্পেইন শুরু করেছে এনসিপিও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দলটির প্রধান লক্ষ্য।
‘হ্যাঁ’ ভোট নিয়ে ফেসবুকে সরগরম সাধারণ মানুষও। নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে নানা ভঙ্গিতে বক্তব্য প্রচার করছেন তারা। মাহমুদুল হক শাফিন নামে একজন লিখেছেন- হ্যাঁ মানে- খাম্বা চুরি করতে পারবে না। হ্যাঁ মানে- ১০% চাদা নিতে পারবে না। হ্যাঁ মানে- আরেক স্বৈরাচার তৈরি হবে না। হ্যাঁ মানে- ভারতের দালালি না করা।
রুশিয়া আক্তার লিখেছেন- সরকার যে কঠিন পক্ষপাতদুষ্ট তার জলন্ত উদাহরণ হ্যাঁ ভোটের ক্যাম্পেইন। এছাড়া তাদের সতেরো মাসের লুটপাট, খুন-খারাপি আর দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ঢাকতে এবং ভবিষ্যতে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে হ্যাঁ ভোট নিতে মরিয়া।
মুজাহিদুল ইসলাম লিখেছেন- সবকিছুতে হ্যাঁ, কিন্তু ৬ নম্বরে না। শ্রাবণ নজরুল লিখেছেন- প্রতিটির সাথে আলাদাভাবে হ্যাঁ / না অপশন থাকলে কারো কারো জন্য সুবিধা হতো।
আবার কেউ শুধু হ্যাঁ অথবা শুধু না লিখে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। তবে সবমিলিয়ে হ্যাঁ এর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!