পে স্কেলের  বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করে সরকারি কর্মচারীরা। 
পে স্কেলের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করা সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ।   ছবি: সংগৃহীত

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখী আন্দোলনকারীদের ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। পরে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়–সংলগ্ন মূল সড়ক দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়।

যমুনার নিরাপত্তায় রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে বিজিবি।

আজ  সকাল সাড়ে ১০টায়  শাহবাগে জড়ো হন আন্দোলনরতরা। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে যেতে চাইলে পুলিশ দফায় দফায় তাঁদের বাধা দেয়। এসময় ডিসি মাসুদসহ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনরতরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনের দিকে এগিয়ে যান।  

পরে তারা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের পাশের সড়কে পুলিশের দেয়া ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার প্রবেশ মুখে অবস্থান নেন তারা। এ সময় বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

পরিস্থিতি  উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছুক্ষণ পর আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড  নিক্ষেপ করে। এতে সেখানে হইচই ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের পরও অনেক আন্দোলনকারী এলাকা ছাড়েননি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনরতরা যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের দিকে জলকামান ছোড়ে। এরপরও আন্দোলনরতরা এগিয়ে গেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনরতরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনের দিকে এগিয়ে যান।

বেলা ১১টায় পর তাঁরা সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পুলিশ এ সময় জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন। আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে আহত অবস্থায় নিয়ে যেতে দেখা যায়। বেলা ১টায় অধিকাংশ আন্দোলনকারী হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান করেন। 

দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ফলে কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।

দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। মোতায়েন করা হয় বিজিবি সদস্যদেরও। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। 

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। আন্দোলনরতরা ব্যারিকেডের সামনে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করছেন । বাংলামোটর থেকে শাহবাগমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনকারীরা ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’, ‘অফিস না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘অবিলম্বে পে স্কেল, দিতে হবে দিয়ে দাও,’ ‘যমুনারে যমুনা, পে স্কেল ছাড়া যাব না’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, আজকের মধ্যেই ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ করতে হবে, অন্যথায় তারা বাড়ি ফিরবেন না।বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও গেজেট প্রকাশ না করায় ক্ষোভ জানান তারা। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পে কমিশন গঠন হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অবিচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সকাল ১০টার পর সরকারি কর্মচারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করলে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের রাস্তা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও শোনেননি। পরে পুলিশ ধাওয়া দিলে ও জলকামান ছুড়লে আন্দোলনকারীরা সরে গিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নেয়।

সকালে ৯ম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সরকারি চাকরিজীবীরা। এরপর সেখান থেকে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করেন তারা।

এর আগে দাবি আদায়ে সরকারি কর্মচারীরা টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারাদেশে সব সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত অফিসে চার ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করা হয়। আজকের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে বড় জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জাতিসংঘের অধীন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তাঁরা সেখানে অবস্থান করছেন।

এমআর/আরটিএনএন