ইনকিলাব মঞ্চ, গুলিবিদ্ধ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল,
আহত অবস্থায় হাসপপাতালে ইনকিলাব মঞ্চের জাবের ও রাকসু ভিপি আম্মার।   ছবি: আরটিএনএন

যমুনা সামনে পুলিশের হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়।

একই সঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছে, জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে এবং আপাতত কোনো জমায়েত আয়োজন হবে না। তারা বলেছে, ‘আমরা চিকিৎসা নিয়ে আবার রাজপথে ফিরব। সেই পর্যন্ত নিরাপদে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, রাকসু জিএস সালাউদ্দির আম্মারও আহত হয়েছেন। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার থেকে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর যমুনা এলাকায় অবস্থান শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। শুক্রবার তারা শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাওয়ার পথে পুলিশের লাঠিচার্জ, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাসের মুখোমুখি হন। এতে আন্দোলনকারীরা আহত হন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক)  মো. ফারুক আনটিএনএনকে বলেন, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সমানে থেকে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড়ে ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মঞ্চের সদস্যরা। মিন্টু রোড ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের গেটেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে আবার ইন্টারকন্টিনেন্টালের মোড়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

শাহরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জানা যায়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা একজন হামলাকারীর গুলিতে তিনি আহত হন। গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

২০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।