ভোটের দিন দূরপাল্লার যানবাহনে বিশেষ সার্ভিস চালুর দাবি
ভোটের দিন দূরপাল্লার যানবাহনে বিশেষ সার্ভিস চালুর দাবি।   ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই গণতান্ত্রিক উৎসবে অংশ নিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। দূরপাল্লার যানবাহনের টিকিটের তীব্র সংকট এবং আকাশচুম্বী ভাড়া আদায়ের অভিযোগে অনেক ভোটারের ভোট দিতে যাওয়া এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভোটের আগের দুই দিন (১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি) এবং পরের দুই দিন (১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি) বিআরটিসির দূরপাল্লার বাস এবং বিশেষ ট্রেন ও লঞ্চ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে ‘খোলা চিঠি’ নামের একটি সংগঠন।

খোলা চিঠির সংগঠক ইলিয়াস হোসেন ও মাহফুজ খান এক বিবৃতিতে বলেন, ভোটকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা থাকলেও ভোট দিতে যাওয়ার জন্য দূরপাল্লার যানবাহনে পর্যাপ্ত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া টানা কয়েক দিনের যান চলাচলের বিধিনিষেধ সাধারণ যাত্রী, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। তাই বিশেষ প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে প্রজ্ঞাপনে গণপরিবহন, বিশেষ করে লোকাল ও দূরপাল্লার বাস চলাচল নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় ভোটার ও যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ভোটের দিন নগর ও আন্তজেলা রুটে বাস চলবে কিনা— এ বিষয়ে পরিষ্কার তথ্য না পাওয়ায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ‘খোলা চিঠি’ সংগঠনটির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঢাকা ও এর আশপাশের  রুটে বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করা। পাশাপাশি লঞ্চ ও ট্রেনে স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে বিশেষ বগি বা সার্ভিস চালুর মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বাস সার্ভিস চালু করা।

সংগঠনটির মতে, এসব উদ্যোগ নেওয়া হলে ভোটারদের কেন্দ্রে পৌঁছানো সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ ও ভোগান্তি কমবে। তারা সহজে ভোট দিতে পারবেন।