নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গেই কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তবে নির্বাচন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে সাবেক দুই রাজনৈতিক মিত্রের মধ্যে—একটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং অন্যটি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব বৃদ্ধিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জানান, চীন থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার বিকল্প হিসেবে ওয়াশিংটন বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব দেয়ার পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীনের সাথে বাংলাদেশ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে, যার আওতায় ভারত সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোন কারখানা স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া পাকিস্তানের সাথে যৌথভাবে চীনের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও ঢাকার আলোচনা চলছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে আমরা পরবর্তী সরকারকে সতর্ক করতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশ যেন মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায়।
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তা নিয়েও কথা বলেন ক্রিস্টেনসেন। তিনি জানান, ট্রাম্প প্রশাসন চায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকুক, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর ভিসা কার্যক্রম এবং ক্রিকেট কূটনীতিতেও যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, তা নিরসনে ওয়াশিংটন আগ্রহী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে বাণিজ্যিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, তবে তারা নতুন সরকারের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট বিনিয়োগবান্ধব বার্তা আশা করে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই সংকটে সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। তিনি বলেন, ১২ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব একা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি জাতিসংঘের সঙ্গে ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল চুক্তি সই হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি অন্য আন্তর্জাতিক দাতাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!