রাত পোহালেই নতুন যুগে প্রবেশের ভোট
রাত পোহালেই নতুন যুগে প্রবেশের ভোট।   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে একটি নতুন পর্বের মাঝে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ভোটাররা বলছেন, বিগত চার দশক ধরেই দেশের মানুষ ভোট বলতে আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপির মধ্যে ক্ষমতার লড়াইকেই বুঝতো। এই দুই দলের বাইরে জাতীয় নির্বাচনে অন্য কোন দলের তেমন কোন মুখ্য ভুমিকা ছিল না। অন্যদের ভুমিকা ছিল পার্শ্ব চরিত্র টাইপের- অনেকটা সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। কিন্তু এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি বলয়ের বাইরে গিয়ে দেশে নতুন করে বিএনপি এবং জামায়াত বলয় তৈরি হয়েছে। এই দুই দলের মধ্য থেকেই ক্ষমতার মসনদে বসতে যাচ্ছে যে কোন একটি দল।

তফসিল ঘোষণার শুরুতে নির্বাচন নিয়ে অনেক উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন হবে কি হবে না, ইন্টেরিম সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না, দলগুলোকে নির্বাচনমুখী করতে পারবে কিনা এমন সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাত পোহালেই হতে যাচ্ছে ভোট গ্রহণ।

শেরপুর এবং হাতিয়ায় দুটির বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখন পর্যন্ত দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোট দিতে ইতোমধ্যে রাজধানী ছেড়েছে অধিকাংশ মানুষ। ভোটের আগের দিন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হল নির্বাচনের দিন কি হয় তা দেখার জন্য।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিএনপি কিংবা জামায়াত যে ই জয়লাভ করুক না কেন নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতন্ত্র যাতে না হেরে যায়। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক একটি সংসদ হয়। শক্তিশালী একটি বিরোধীদল হয়, রাষ্ট্র যাতে ভারসাম্যহীন না হয়ে পড়ে। 

নির্বাচনে গণভোট একটি বড় বিষয়- গণভোটে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ হ্যাঁ ভোটের বিপক্ষে অবস্থান নেয়নি। হ্যাঁ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশে সাংবিধানিক কাঠামো এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাঝে বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে।

এদিকে রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানোর কাজ চলছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতের মধ্যেই ঢাকার বাইরের কেন্দ্রগুলোতে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্সসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ পৌঁছে যাবে। আর রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যেই।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য আর গোলাপি ব্যালটে গণভোটের জন্য।

‎নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এরমধ্যে পুরুষ ‎ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।

মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে 'ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার মিলিয়ে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচনে।

‎২৯৯টি আসনে (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত) ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৫ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন এবং পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে; সেনাবাহিনী থাকবে ১ লাখ ৩ হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার (উপকূলীয় ১৭ আসনে), বিমান বাহিনী ৩ হাজার ৫০০, পুলিশ ও র‍্যাব: ১ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন, বিজিবি ও অন্যান্য: ৪২ হাজার ৯৬০ জন।

নির্বাচনী অপরাধ দমনে ৬৫৭ জন বিচারিক হাকিম এবং ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী হাকিম মাঠে রয়েছেন। ইতোমধ্যে ৪৬৮টি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ২৫৯টি মামলা হয়েছে এবং প্রায় ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

‎ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে সাধারণ কেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।