শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, জাফর ইকবাল,
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও থেমে থাকেননি জাফর ইকবাল   ছবি: আরটিএনএন

বৃহস্পতিবার সকালের নরম আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি পুরান ঢাকার আকাশে। মহানগর শিশু হাসপাতাল কেন্দ্রের সামনে ধীরে ধীরে জমছে ভোটারদের ভিড়। ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল ৭টা ৫৫ ছুঁয়েছে, ঠিক তখনই সহায়তার হাত ধরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন জাফর ইকবাল। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও থেমে থাকেননি তিনি। আজ তার জীবনের প্রথম ভোট।

কেন্দ্রে প্রবেশের সময় চোখেমুখে ছিল এক ধরনের প্রত্যাশা আর উত্তেজনা। ভোটকক্ষে ঢুকে ব্যালটে সিল মারার মুহূর্তটিকে তিনি বললেন 'অন্যরকম অনুভূতি'। 

বাইরে এসে হাসিমুখে বলেন, 'অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম, কবে ভোট দেব। আজ সেই সুযোগ পেলাম। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে দিতে পারলাম—এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

জাফর জানান, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নাগরিক দায়িত্ব পালনে তিনি পিছিয়ে থাকতে চাননি। পরিবারও তাকে সাহস জুগিয়েছে। 'আমার মতো যারা প্রতিবন্ধী, তাদেরও এগিয়ে আসা উচিত। আমরা কেউই পিছিয়ে নেই,' বলেন তিনি।

কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ভোটারদের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় জাফর নির্বিঘ্নেই ভোট দিতে পেরেছেন।

নির্বাচনের এই সকালে জাফরের হাসি আর উচ্ছ্বাস যেন মনে করিয়ে দিল—ভোট শুধু একটি প্রক্রিয়া নয়, এটি অংশগ্রহণের আনন্দ, নিজের কণ্ঠ শোনানোর অধিকার। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তার পথ রোধ করতে পারেনি; বরং প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতা হয়ে রইল তার জীবনের এক গর্বের দিন।