মন্ত্রী
সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।   ছবি: সংগৃহীত

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার ক্ষমতায় আসার এক সপ্তাহ না পেরোতেই দুই মন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলোর প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনায়।

সড়ক পরিবহন খাতে ‘চাঁদাবাজি’ বিতর্ক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, সড়ক পরিবহনে মালিক-শ্রমিক সমিতির মাধ্যমে যে অর্থ সংগ্রহ করা হয়, সেটিকে তিনি সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ মনে করেন না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এটি মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কল্যাণে সমঝোতার ভিত্তিতে তোলা অর্থ, যা দীর্ঘদিন ধরে অলিখিত নিয়ম হিসেবে চলে আসছে।

তবে তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই অভিযোগ তুলেছেন, এতে করে পরিবহন খাতে অনিয়ম ও চাঁদাবাজিকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
‘ইনকিলাব’ শব্দ ঘিরে বিদ্যুৎমন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড়

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বাংলা ভাষা ও রাজনৈতিক স্লোগান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, “বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, তাহলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না।” তিনি দাবি করেন, এ ধরনের শব্দের সঙ্গে বাংলা ভাষার সম্পর্ক নেই এবং এগুলো ভিন্ন ভাষা থেকে এসেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ বক্তব্য দেওয়ার কারণে তাকে ভারতের দালাল বা ‘র’-এর এজেন্ট বলা হতে পারে, তবুও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবেন।

তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। এক দিনে ফেসবুকে কয়েক মিলিয়ন পোস্টে “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” লিখে প্রতিবাদ জানান ব্যবহারকারীরা।

বিরোধীদলের প্রধান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ইনশাআল্লাহ, আগামীর বাংলাদেশ ইনসাফের বাংলাদেশ। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” তার ওই পোস্টে ১০ ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ হাজার ৬০০ জন মন্তব্য করেন।

একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “কেউ যদি একবার ইনকিলাবের বিপক্ষে বলে, আমরা এক হাজার বার বলবো—ইনকিলাব জিন্দাবাদ।” আরেকজন লেখেন, “শব্দের ওপর বাধা এলে সেটিই আন্দোলনের শক্তিতে রূপ নেয়।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতায় আসার শুরুতেই দুই মন্ত্রীর এমন বিতর্কিত বক্তব্য সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া সরকারের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাদের মতে, নতুন সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনমতের প্রতি সংবেদনশীল থাকা এবং বিতর্কিত ইস্যুগুলোতে দ্রুত ও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা বা অবস্থান জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থামার লক্ষণ নেই।