আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।   ছবি: সংগৃহীত

আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। এদিন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ করে সাতক্ষীরা, সিরাজগঞ্জ ও ঢাকাসহ অন্য জেলায় চলেছিল পরিকল্পিত গণহত্যা, যেখানে শিশু, নারী ও পুরুষসহ কমপক্ষে ১৬০ জন নিহত হন।

২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ, তৎকালীন সরকার ও প্রশাসন যৌথভাবে সাঈদী সমর্থকদের ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। প্রথম দিনেই পুলিশের গুলিতে ঢাকায় ৭০ জনের বেশি নিহত হন। অন্যান্য জেলার নিহতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে সাতক্ষীরা ১৪, ঠাকুরগাঁও ৭, রংপুর ৭, গাইবান্ধা ৬, নোয়াখালী ৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২, কক্সবাজার ২, দিনাজপুর ২, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ৩, নাটোর ১, সিরাজগঞ্জ ২, মৌলভীবাজার ২, রাজশাহী ও বগুড়া ২। পরবর্তী সাত দিনে আরও ১০০’র বেশি সাঈদী সমর্থক নিহত হন।

রায়ের পর ‘সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে হত্যাকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। নৃশংসতার খবর আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হলে জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে।

২০২৫ সালের ২ মার্চ, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস এবং সিনিয়র মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সাক্ষাৎকালে সাঈদীর রায়-পরবর্তী হত্যাযজ্ঞ নথিভুক্ত করার জন্য জাতিসংঘকে অনুরোধ করা হয়।

এদিকে এই গণহত্যার বিচার নিয়ে জামায়াতের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, সংগঠনিকভাবে মামলা করা হবে না, তবে নিহত পরিবার চাইলে আইনি সহায়তা দেয়া হবে। সাতক্ষীরার বর্তমান জেলা সেক্রেটারি আজিজুর রহমান বলেন, রায়ের দিন থেকে পরবর্তী সাত দিনে শুধু মানুষ হত্যা নয়, বসতবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়। আমরা আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের জন্য ন্যায়বিচারের আশা রাখছি।

সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদী বলেন, আমাদের দরজা সব সময় শহিদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের জন্য খোলা। আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি এবং ন্যায়বিচারের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। তিনি আরও জানান, ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট চিকিৎসার নামে তাকে হাসপাতালে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।

সিরাজগঞ্জে রায়ের দিন চারজন নিহত হন, পরে পুলিশ নিহত পরিবার ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। 
আদালতে মামলা গ্রহণ হলেও প্রতিবেদনে নিহত পরিবারকে চাপে রাখা হয়। জামায়াত ও নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হয়েছে এবং আরও প্রস্তুতি চলছে।

এতে করে নিহত ও আহতদের পরিবার আশা রাখছেন ক্ষতিপূরণ এবং বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার।