জুলাই আন্দোলনে সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আরটিভির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা-সিইও সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ। এজন্য তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই আবুল হাসান গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
যোগাযোগ করা হলে আবুল হাসান বলেন, “সৈয়দ আশিক রহমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার অভিযোগের সত্যতা মেলেনি। এজন্য তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।”
এর আগে এ মামলায় আরও কয়েকজনকেও অব্যাহতির সুপারিশ করেছেন বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবুল হাসান।
প্রতিবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, বাদীর আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এজন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারা মোতাবেক মামলার দায় থেকে তাকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদানের সুপারিশ করা হলো।
সাধারণত কোনো মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। তবে গত বছরের ১০ জুলাই অধ্যাদেশ হওয়া সংশোধিত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
মামলার বিবরণ অনুযাযী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে কাকরাইল মোড় সংলগ্ন এলাকায় দিয়ে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন সাইফুল ইসলাম। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সাপের মত পেটায়, পরে তাকে অর্ধমৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে বেটার লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সাইফুলকে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তাকে আবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে মারা যান সাইফুল।
এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই পরিচয়ে রফিকুল ইসলাম বেপারী গত বছরের ১৬ মার্চ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে ১৩১ নম্বর আসামি করা হয় সৈয়দ আশিক রহমানকে।
অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এম এ আরাফাত, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সেলিম, হাজী সেলিম, বাহাউদ্দিন নাসিম, নজরুল ইসলাম বাবু, নূর নবী চৌধুরী শাওন, আফজাল হোসেন, মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম, পুলিশের সাবেক আইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশিদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মামলা সম্পর্কে জানতে বাদী রফিকুল ইসলাম বেপারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!