সংসদ, জাতীয়, ওয়ালিউল্লাহ,
মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ।   ছবি: সংগৃহীত

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের বিষয়ে কোনো উল্লেখ না থাকায় তিনি হতাশ হয়েছেন। তার মতে, প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন না হলে দেশে আবারও স্বৈরাচার ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শুরু থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাঠে সক্রিয় ছিল। অনেক দল যখন দলীয় ব্যানারে এই আন্দোলনে সম্পৃক্ততার বিষয়ে দ্বিধায় ছিল, তখন আবু সাঈদের শাহাদাতের পর আমার নেতা পীর সাহেব চরমোনাই রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছিলেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে শহীদ ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল করিমকে (পীর সাহেব চরমোনাই) স্মরণ করেন।

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা হলেও এবারের ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখ নেই। অন্তর্বর্তী সরকার ও সরকারপ্রধানের নাম উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানানো হলে ভালো হতো।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বারবার ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যা শুনতে ভালো লেগেছে। তবে জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না থাকায় তা হতাশাজনক।

মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ বলেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রয়োজনে এসব সংস্কার প্রস্তাব গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়ে পরিণত করা যেতে পারে।

সংসদ সদস্য অলিউল্লাহ তার নির্বাচনী এলাকা বরগুনার বিভিন্ন উন্নয়ন দাবি তুলে ধরে বলেন, জেলার পায়রা ও বিষখালী নদীবেষ্টিত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল। এ কারণে দ্রুত আধুনিক ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, পুরাকাটা–বাইনসকি পয়েন্টে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ ছাড়া তালতলী উপজেলাকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পৌরসভা ঘোষণা এবং এলাকায় ভাঙাচোরা রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। তালতলী উপজেলা বরগুনা জেলা শহর থেকে বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে সেখানে দ্রুতগামী ফেরি চালুরও আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।