বইমেলা
বইমেলায়।   ছবি: সংগৃহীত

‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অমর একুশে বই মেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অংশগ্রহন করে ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান । অংশ নেওয়া ২৬৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ১৭ দিনে আট কোটি টাকার বই বিক্রি করেছে। মেলা পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, সে হিসাব অনুযায়ী ১৪ মার্চ পর্যন্ত মেলায় অংশ নেওয়া ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রির পরিমাণ ১৭ কোটি টাকা।  

রবিবার (১৫ মার্চ) অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’—এর সদস্য—সচিব ড. মো. সেলিম রেজা এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন । 

তিনি বলেন, বইমেলায় বাংলা একাডেমিসহ সকল প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে। বাংলা একাডেমি ১৪ই মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে সতেরো লাক্ষ চার হাজার ছয়শত উনত্রিশ টাকার বই বিক্রি করেছে। বইমেলায় অংশগ্রহণকারী সর্বমোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪টি মিডিয়া ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানও অংশ নেয়। 

বাংলা একাডেমির তথ্য অনুযায়ী, এবছর সর্বমোট নতুন বই এসেছে (২৬ ফেব্রুয়ারি—১৫মার্চ) ২০০৭টি। নিবন্ধিত মোড়ক উন্মোচনের সংখ্যা ছিল ২৫২টি। 

তাঁর প্রতিবেদনে আরও উপস্থাপন করেন, এবার বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোট ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১,০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে এক ইউনিটের ২৮৭টি, দুই ইউনিটের ২২৫টি, তিন ইউনিটের ৪৬টি, চার ইউনিটের ২৭টি, পাঁচ ইউনিটের ২৯টি এবং ছয় ইউনিটের ৩টি স্টল ছিল। এছাড়া শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৯০টি লিটল ম্যাগ স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হয়েছে। যারা আগে ভাড়া জমা দিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়াও, শিশুদের জন্য এবার মুক্তমঞ্চের সামনে বড় পরিসরে শিশুচত্বর রাখা হয়। প্রতি শুক্রবার ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশু প্রহর পালন করা হয়। এ সময় শিশুদের জন্য আবৃত্তি, সংগীত ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। শিশুচত্বরে পাপেট শো ও বায়োস্কোপও ছিল শিশুদের বিশেষ আকর্ষণ।
এবং মেলায় তথ্যকেন্দ্র, নামাজের স্থান, টয়লেট, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মঞ্চ আলোচনা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা সেবা প্রদান করা হয়। পবিত্র রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজ আদায়েরও ব্যবস্থা ছিল।

ড. সেলিম রেজা মেলার সার্বিক ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এবারের মেলায় ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল বিবিএল। কো-স্পন্সর হিসেবে ছিল আমা কফি, পোলার আইসক্রিম, বার্জার পেইন্টস ও মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ। মেলার নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার, বিএনসিসি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করেছে এবং পুরো মেলা এলাকায় তিন শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। মেলাকে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত রাখারও চেষ্টা করা হয় বলেও জানান তিনি। 

শেষে মেলাকে সফল করতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, প্রকাশক, লেখক, গণমাধ্যম ও বাংলা একাডেমির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। আগামী বছর আরও পরিপূর্ণ আয়োজনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ড. মো. সেলিম রেজা।