১৬টি অধ্যাদেশে কোনো অস্বচ্ছতা নেই: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।   ছবি: সংগৃহীত

মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ১৬টি অধ্যাদেশের বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এসব অধ্যাদেশে কোনো অস্পষ্টতা বা অস্বচ্ছতা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ১১০টি অধ্যাদেশকে বিল আকারে সংসদে আনা হয়েছে, যা ৯১টি বিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করে পরে সংসদে পাস করা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে প্রণীত এসব আইনে কোনো ধরনের অস্বচ্ছতা রাখা হয়নি; বরং যেসব অধ্যাদেশে আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন ছিল, সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ৯৭টি অধ্যাদেশ হুবহু আগের মতোই পাস হয়েছে, ১৩টি সংশোধন করে পাস করা হয়েছে এবং ৭টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ-সংক্রান্ত বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনো সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি।

রহিতকরণ বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনায় (প্রিঅ্যাম্বল) কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়–সংক্রান্ত বিষয়গুলো রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অংশীজনদের সঙ্গে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোথাও কোনো অস্পষ্টতা রাখেনি। সংসদের মাধ্যমে বিল উপস্থাপন মানেই তা আইনে পরিণত হয়, এমনকি রহিতকরণ বিলও আইনের অংশ হয়ে যায় যেখানে পরবর্তী পর্যালোচনার সুযোগ থাকে।

গুমসংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুমের সংজ্ঞা ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। এ কারণে বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এছাড়া মানবাধিকার কমিশন আইনের কিছু ধারা—বিশেষ করে তদন্ত, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরামর্শসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।