বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে?
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসের বাউন্ডারির ভেতরে একটি বিশাল আকৃতির গাছ ডালপালাহীন ও কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।   ছবি: আরটিএনএন

রাজধানীর একটি ব্যস্ততম সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মরা গাছ এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে মৃত অবস্থায় থাকা এই গাছটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি কিংবা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসের বাউন্ডারির ভেতরে একটি বিশাল আকৃতির গাছ ডালপালাহীন ও কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। বৃষ্টি কিংবা সামান্য ঝড়ো বাতাসেও গাছটির পচা ডাল ভেঙে নিচে পড়ে যাচ্ছে। ফলে বিশেষ করে বাস, সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গাছটি মরে যাওয়ার বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করি। গত সপ্তাহেও একটি ডাল অল্পের জন্য একটি রিকশার ওপর পড়েনি। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ হবে?

সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত হওয়ায় সারাদিন এখানে শত শত যানবাহন চলাচল করে। মরা গাছের ডাল ভেঙে রাস্তায় পড়ে গেলে সহজেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে গাছটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ঝড়ো হাওয়ায় মাটির সঙ্গে গাছটির সংযোগ দুর্বল হয়ে গেলে পুরো গাছটি উপড়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকসের রেজিস্ট্রার রুহুল আমিন আরটিএনএন-কে জানান, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মরা গাছটি তারা দীর্ঘদিন ধরেই পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এটি সরকারি সম্পত্তি হওয়ায় অনুমতি ছাড়া তা অপসারণ করা সম্ভব নয়। এ ধরনের গাছ কাটতে সরকারি অনুমোদনের পাশাপাশি টেন্ডার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে দ্রুত গাছটি অপসারণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ মরা গাছ অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও চালকরা।