জাকসু ভিপির আপত্তি, ভেস্তে গেল গণভোট নিয়ে জাকসুর সেই সেমিনার
জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু।   ফাইল ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ব্যানারে গণভোট অধ্যাদেশ ও জুলাই সনদ নিয়ে আয়োজিত একটি সেমিনার শেষ পর্যন্ত আর অনুষ্ঠিত হয়নি। আয়োজকদের দাবি, অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতায় দুদফা চেষ্টা করেও অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু স্বয়ং নিজেই এতে আপত্তি জানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ‘গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রযাত্রার রাজনীতি: সংবিধানিক বৈধতার প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক সেমিনারটি হওয়ার কথা ছিল। এর আগে ৯ এপ্রিল প্রথম দফায় আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুরোধে তা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিও বাস্তবায়ন হয়নি।

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব অভিযোগ করেন, জাকসুর অধিকাংশ সদস্য সেমিনার আয়োজনের পক্ষে থাকলেও ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু শুরু থেকেই এতে অনাগ্রহ দেখান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে’ তিনি সেমিনারে থাকবেন না বলে অবস্থান নেন, যা কার্যত আয়োজন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।

তিনি আরও দাবি করেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও জটিল করে তোলা হয়। রেজিস্ট্রারের অনুমতি, সকল সদস্যের স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়, যা বাস্তবে পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভিপির স্বাক্ষর না থাকায় উপাচার্যের অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আহসান লাবিব বলেন, নিরাপত্তাজনিত অজুহাত তুলে অনুষ্ঠান নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং এমনকি জাকসু ভেঙে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। সব প্রস্তুতি শেষ থাকলেও শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের সেমিনারটি স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়। তার মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের বাধা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু। তিনি বলেন, সেমিনার আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি কোনো অসহযোগিতা করেননি। বরং শুরু থেকেই তিনি বিষয়টি জাকসুর সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে এবং সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে আয়োজনের পক্ষে ছিলেন।

তার দাবি, সেমিনারের শিরোনাম, অতিথি তালিকা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তাকে আগেভাগে অবহিত করা হয়নি। পোস্টার প্রকাশের পর বিষয়টি জানার ফলে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, জাকসুর মতো একটি সর্বজনীন প্ল্যাটফর্মে একপাক্ষিক আয়োজন অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সেমিনারটি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।