গণঅভ্যুত্থান হলো সাধারণত শোষণ, দুর্নীতি, নিপীড়ন বা কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক আন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য সরকার পতন বা কাঠামোগত পরিবর্তন।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা কী—তা নিয়ে যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার রূপরেখা তৈরি করে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
এতে রাজনৈতিক দলগুলো পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে আপনি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করবেন—আগামীর বাংলাদেশ আপনি কেমন চান।
যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়, তাহলে সংস্কার কমিশনের রূপরেখা অনুযায়ী ২০২৪ সালে গঠিত বাংলাদেশের একাধিক সংস্কার কমিশন (যেমন: সংবিধান, নির্বাচন, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ইত্যাদি) এবং তাদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার প্রতিফলিত হবে।
এই রূপরেখায় একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার, স্থানীয় সরকারে স্বায়ত্তশাসন, দুর্নীতি দমন এবং সব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা আগামীর বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
আর ‘না’ ভোট জয়যুক্ত হলে, বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের ন্যায় একটি নতুন জালিম ফ্যাসিস্ট সরকারের আবির্ভাব হবে, যার গ্লানি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুগের পর যুগ বহন করতে হবে। তাই নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত করতে হবে।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত সরকার ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে।
নিচে দেওয়া হলো ভবিষ্যৎ নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা—
এতে বলা হয়, আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে—তেমনি সরকারও চায়—
১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে।
২. সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না।
৩. সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে।
৪. বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন।
৫. যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
৬. সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে।
৭. ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।
৮. দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
৯. আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা বাড়বে (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ করা যাবে না)।
১০. দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না।
১১. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।
লিফলেটের নিচে আরও বলা হয়—‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে ওপরের সবকিছু পাবেন, আর ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন, পরিবর্তনের চাবিকাঠি এবার আপনারই হাতে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!