ইসলামী আন্দোলন, চোরাবালি
রেজাউল করিম (ডানে) ও ফজলুল করিম (বামে)।   ছবি: আরটিএনএন

জুলাই আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলনের ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। প্রকাশ্যেই রাজপথে অবস্থান ছিল দলটির। ৪ঠা আগস্ট কঠিন এক মুহূর্তেও শাহবাগে সমাবেশে যোগ দেন মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম।

অবশ্য শেখ হাসিনার জমানায় তাদের হিসাব ছিল আলাদা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলেমিশে কৌশলে এগিয়ে গেছে চরমোনাই পীরের দল। বিএনপি-জামায়াতের অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠেও ভালোই করে দলটি। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হিসাব উল্টে যায়, যখন ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা হামলার শিকার হন।

৫ আগস্টের পর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। এমনিতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সম্পর্কটা কখনোই তেমন ভালো ছিল না। এবার একটি ইতিবাচক উদ্যোগ নেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম। জামায়াত আমির যখন ইসলামী আন্দোলনের হেডকোয়ার্টারে যান, তাকে উষ্ণ আতিথেয়তা দেওয়া হয়। সেসময় চরমোনাই পীর ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনার ঘোষণা দেন। তবে ঠিক এক বছর পর গতকাল ইসলামী আন্দোলনই সে এক বাক্স নীতির সমাপ্তি ঘোষণা করল। প্রথম আলো আজ খবর দিয়েছে—ইসলামপন্থীদের ভোট তিন বাক্সে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও বলা হচ্ছে, তারা ২০ তারিখ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করবেন। তবে এতে তেমন কোনো লাভ হবে বলে আপাতত মনে হচ্ছে না।

ইসলামী আন্দোলন কেন ১১ দলীয় সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেল, তা স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট কারও কারও দাবি, জোট ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রাখেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম। অতীতে দলটির কখনো সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল না। সম্প্রতি প্রকাশিত জরিপগুলোতেও দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলনের ভোটের হার ৫ শতাংশের কম। অথচ ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনি সমঝোতায় ৭০ থেকে ১০০টির মতো আসন দাবি করে। জোটের পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪৭টি আসন খালি রাখা হয়েছে। ১০ দলের পক্ষ থেকে যে বড় উদারতা দেখানো হয়েছে, তা স্পষ্ট।

কিছুদিন আগে মুফতি ফয়জুল করিম দাবি করেন, ১৪৩টি আসনে তারা ‘এ গ্রেড’ অবস্থানে রয়েছেন। তিনি এটাও বলেন, তারা কেন জোট থেকে বের হয়ে যাবেন। এ জোট তারা প্রতিষ্ঠা করেছেন; প্রয়োজনে জামায়াতকে জোট থেকে বের করে দেবেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর থেকেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকে। এমনকি একটি সূত্র এটাও বলছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জামায়াতকে বলা হয়, দলটি যেন ১৫০ আসনে নির্বাচন করে। বাকি ১৫০ আসন ইসলামী আন্দোলন অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করবে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, জোট ত্যাগ করে ইসলামী আন্দোলন মূলত ভুল ও লোভের চোরাবালিতে ঢুকে পড়েছে। এই সিদ্ধান্ত জামায়াত কিংবা ইসলামী আন্দোলন—কাউকেই ভোটের মাঠে সহায়তা করবে না। এতে সবচেয়ে লাভবান হবে বিএনপি। ইসলামী আন্দোলন আদৌ কোনো আসনে জয় পাবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এমকে/আরটিএনএন