বিএনপি, মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   ছবি: সংগৃহীত

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে যাঁরা এখন ভোট চাইছেন, তাঁরা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলেন—ভোটারদের এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় মানুষের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হওয়া এবং লুটপাটের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গণসংযোগে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘যাঁরা আজ দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আপনাদের সামনে ভোট চাইতে আসছেন, তাঁরা কিন্তু একাত্তরে এই স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন। তখন আপনাদের অনেককে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল, ঘরবাড়ি লুটপাট হয়েছিল—এটা আপনারা ভুলে যাননি।’

তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাইবোনদের যে ভয় কাজ করে, সেই ভয় আর থাকবে না। এ দেশ যেমন মুসলমানদের, তেমনি সংখ্যালঘুদেরও—সবার অধিকার এখানে সমান।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা দেশ ছেড়ে কোথাও যাইনি, যাব না। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। এখন আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করে—ভিন্ন প্রতীকে ভোট দিলে ভবিষ্যতে ক্ষতির শিকার হতে হতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, অতীতেও বিএনপি সংখ্যালঘুদের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার পক্ষে থাকা শক্তি, আইনের শাসন, আইনশৃঙ্খলা, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের পক্ষে যাঁরা কথা বলেন—ভোট দিয়ে তাঁদের হাত শক্তিশালী করতে হবে।

গণসংযোগকালে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং দলের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য দেন।

এমকে/আরটিএনএন