মির্জা ফখরুল
আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন।   ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ। জীবনের আরও একটি বছর পেরিয়ে নতুন বছরে পা রাখলেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেছেন।

জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে কেক কাটেন বিএনপির মহাসচিব। স্ত্রী রাহাত আরা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও এই সময়টুকু তিনি পরিবারের সঙ্গে কাটান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, টানা নির্বাচনী গণসংযোগের কারণে শরীর কিছুটা খারাপ। ধুলাবালি ও ঠান্ডা-গরমের প্রভাবে গলা ব্যথা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। জন্মদিন উপলক্ষে ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, নেতাকর্মী ও অনুসারীর শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত হন তিনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সুধীজন শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জন্মদিনে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দেশের মানুষের মুক্তি এবং একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার পিতা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন একজন আইনজীবী ও সংসদ সদস্য এবং মাতা মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন তিনি। ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিবের দায়িত্ব পান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন মির্জা ফখরুল। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের নেতা ছিলেন এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়ে ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুল দুই কন্যাসন্তানের জনক। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন। তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত।

বিগত সময়ে রাজনৈতিক মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করা এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।