নির্বাচন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।   ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, সংখ্যালঘুসহ সকল নিপিড়িত ও দুর্বলের জন্য ইসলাম একটি পরীক্ষিত শাসনব্যবস্থা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও বিদ্যমান আইন ও বন্দোবস্তে চালিত এই রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে নাই; বরং তাদেরকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট ও রংপুরের বিভিন্ন আসনে পথসভা ও নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন,বিদ্যমান বন্দোবস্ত-আইন নিপিড়িত ও দুর্বলকে রক্ষা করার বদলে স্বয়ং রাষ্ট্রকেই নিপিড়নের উপকরণ বানিয়েছে। দ্রব্যমূল্য, মুদ্রাস্ফূীতি ও আর্থিক অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্বলকে দুর্বলতর করেছে। মানুষের রক্তপানি করা শ্রমে উৎপাদিত আয় থেকে কর আদায় করে সেই করের টাকা বিদেশে পাচার করেছে। বিদ্যমান বন্দোবস্ত ও আইন বাংলাদেশকে একটি নাগরিক রাষ্ট্রের বদলে নির্দিষ্ট গুটিকয়েকের মুনাফার উৎস বানিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র জনতা এই পুরোনো বন্দোবস্তকে উৎখাত করার জন্যই রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে, পঙ্গুত্ব-অন্ধত্ব বরণ করেছে। আমরা ছাত্র-জনতার সেই চাওয়াকে বাস্তবে রুপ দিতেই ইসলামকে বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি। ৫৪ বছরের ব্যর্থতাকে মুছে স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণে হাতপাখা প্রতিকে ভোট দিন। কথা দিচ্ছি, আপনাদের আর হতাশ হতে হবে না।

চরমোনাই পীর বলেন, ৯০% মুসলমানের দেশে ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করতে যারা ভয় পায় তাদের জন্য ইসলামী রাজনীতি করা মানায় না। বাংলাদেশে একমাত্র ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই পরিস্কারভাবে ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাই যারা ইসলামকে ভালোবাসেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, যারা অর্ধশত বছরের ব্যর্থতা কাটিয়ে উঠতে চান তারা হাতপাখা প্রতিকে ভোট দিন।

পথসভা ও নির্বাচনী জনসভাগুলোতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনালের সুলতান আহমেদ সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।