নির্বাচন
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ও এবি পার্টি।   ছবি: আরটিএনএন

জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পেয়েও শরীকদের সহযোগীতা না করায় ১১ দলে অসন্তোষ শিরোনামে"প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা ও এবি পার্টি। 

রাবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পৃথক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটি আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম বলেন, কথিত গণমাধ্যমের মিথ্যা অপপ্রচারে কেউ পা দিবেন না।  ১১ দল সুসংহত আছে এবং থাকবে। চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে আমরা জোটগত ভাবে অটুট আছি।

তিনি বলেন, স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান সহায়ক শক্তি গণমাধ্যম। দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে গণমাধ্যমের ভূমিকা সব সময় প্রসংশনীয়। বিগত ফ্যাসিবাদের জুলুম নির্যাতনের কথা তুলে ধরে গণমাধ্যম জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি গণমাধ্যমের স্বার্থন্বেষী পেশাদারিত্বের কারণে যেন নতুন কোন ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে সেদিকে দৃষ্টি রাখবে। গণমাধ্যমের উচিত কারো উসকানিতে পা দিয়ে মিথ্যা বা মনগড়া সংবাদ প্রকাশ জাতিকে বিভ্রান্ত না করা।

‎জাগপা নির্বাচন পরিচালনা লিয়াজোঁ কমিটি বিবৃতিতে আরো বলেন, বিএনপির বিগত তিন-তিনবারের শাসনামলে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলবাজি, নারী নির্যাতন  এবং ভারতের সাথে আঁতাত করা  রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপির থেকে মূখ ফিরিয়ে নিয়েছে। 

তাই দেউলিয়া হয়ে বিএনপি এখন ভারত নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কূটনীতিকদের সাথে বিএনপির শীর্ষনেতাদের  একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপির হয়ে ভারত  ইসরায়েলী গোয়েন্দা সংস্থা "মোসাদ" এর সাথে লবিং শুরু করেছেন। 

তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের টুইটার 'হ্যাক ' করে নারীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এর ফেসবুক আইডি 'হ্যাক' করার জন্য গত এক সাপ্তাহ ধরে চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন পেয়েও শরীকদের সহযোগিতা না করায় ১১ দলে অসন্তোষ” শিরোনামে প্রকাশিত একটি সংবাদকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবি পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং সদস্য সচিব আলতাফ হোসাইন।

এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, উক্ত সংবাদে উত্থাপিত বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। ১১ দলীয় জোটের শরীকদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সৌহার্দ্য ও সমন্বয় অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সুসংহত। জোটের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অসন্তোষ বা সহযোগিতার ঘাটতি নেই। বরং ঐক্যবদ্ধভাবেই জোট দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

তারা আরও বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ১১ দলীয় জোটের ঐক্য নষ্ট করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এ ধরনের বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করছে, যা সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং অনাকাঙ্ক্ষিত।

নেতৃবৃন্দ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভিত্তিহীন ও যাচাইবিহীন সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে তারা দেশবাসীকে গুজবে কান না দিয়ে সত্য ও বাস্তবতার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং ১১ দলীয় জোটের ঐক্য ও রাজনৈতিক কর্মসূচি আগের মতোই দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।