ইশতেহার ঘোষণা খেলাফত মজলিসের
সংবাদ সম্মেলনে ৩৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা করে খেলাফত মজলিস।   ছবি: আরটিএনএন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ৩৫ দফা ইশতিহার ঘোষণা করেছে খেলাফত মজলিস। মঙ্গলবার দুপুরে পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল।

জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদান ও তার আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার করাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে জুলাই ও শাপলা গণহত্যাসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মাধ্যমে ইসলামী খেলাফতের আলোকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা প্রথম দফায় রেখেছে খেলাফত মজলিস। 

দ্বিতীয় দফায় আইনের শাসন ও জবাবদিহীতা নিশ্চিতকরণ, তৃতীয় জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,  চতুর্থ স্বাধীন গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চয়তা দান তবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে অবমাননা হিসেবে গণ্য করা, পঞ্চম বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিতকরণ, ষষ্ঠ অর্থনীতি ও আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা,  সপ্তম মাতৃভাষা, যার যার ধর্মীয় ভাষা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অষ্টম দফায় সৎ দক্ষ ও গণমুখী প্রশাসন গঠন ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নবম দফায় মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অর্থাৎ সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিতকরণ, দশম বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি,  একাদশ দফায় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে শক্তিশালীকরণ ও শিক্ষার্থীসহ সক্ষম নাগরিকদের দুই বছর মেয়াদী সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা ঘোষণা করেছে ইশতেহারে।

দ্বাদশ দফায় নারী ও শিশু অধিকার নিশ্চিতকরণ, ত্রয়োদশে মানবসম্পদ ও তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন,  প্রবাসী কল্যাণ,  ১৫শ’ এ ভাষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, ১৬শ’ এ অমুসলিম ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ,  ১৭শ’ এ পররাষ্ট্রনীতিতে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব নীতিকে বহাল রাখা হবে, ১৮শ’ দফায় কৃষি ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় কৃষকদের ভর্তুকি প্রদান এবং চর ও খাসজমি কৃষকদের মধ্যে বন্টন করার কথা বলেছে খেলাফত মজলিস।

১৯শ’ দফায় শিল্প ও বিনিয়োগ, ২০শ’ তে গ্রাম উন্নয়ন, ২১শ’ তে শ্রমিক অধিকার, ২২শ তে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, ২৩শ’ তে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা খাত সংস্কার উল্লেখ করে ইউনিয়নে ১০০ শয্যা ও প্রতিটি উপজেলায় ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। ২৪শ’ তে মাদকাসক্তি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ,  ২৫শ’ তে সামাজিক নিরাপত্তা, ২৬শ’ তে কর ব্যবস্থাপনায় অপ্রয়োজনীয় ও জুলুমমুলক কর বাদ দেয়ার কথা বলেছে খেলাফত মজলিস।

২৭শ’ দফায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ২৮শ’ তে নিরাপদ সড়ক ও যোগাযোগ,  ২৯শ’ তে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করার জন্য জাতীয় বাজেটের ১০% বরাদ্দ রাখার ঘোষণা, ৩০শ’ তে পরিবেশ ও জলবায়ু, ৩১শ’ তে নদী সুরক্ষা (পানির অধিকার নিশ্চিত করা), ৩২শ’ তে পর্যটন শিল্প, ৩৩শ’ তে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৩৪শ’ তে নির্বাচন ব্যবস্থা ও নির্বাচনকালীন সরকার এবং৩৫শ’ দফায় প্রবাসী নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণের কথা লো হয়েছে।

১১ দলীয় জোট জয়ী হলে এ ইশতেহার বাস্তবায়নের সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব ড মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দলটির ২০ আসনের সবগুলোতেই জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদও জানান তিনি। 

কিছু অনিয়ন থাকলেও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানায় খেলাফত মজলিস। তবে নির্বাচনের শেষ ধাপে এসে সেনাবাহিনী কার্যকর দায়িত্ব পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুস্তাফিজুর রহমান। ভারতের সাথে পানি চুক্তিতে বাংলাদেশের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারার ব্যাপারেও আশার বাণী শোনান তিনি। এক্ষেত্রে প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষায় জাতিসংঘের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান তিনি।

ভ্যাট-ট্যাক্সে শৃঙ্খলা আনলে ও দুর্নীতি রোধ করলে করের পরিধি কমলেও আয় বাড়বে বলে উল্লেখ করেন মজলিস নেতারা। তাই অপ্রয়োনীয় কর বাদ দিলে অর্থনীতি পতনের শঙ্কা নেই বলে মনে করেন তারা।

ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন উচ্চাভিলাষ কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খুবই সম্ভব। দেশের দুর্নীতির গর্তগুলো বন্ধ করতে পারলে এটা মোটেই অসম্ভব না। দুর্নীতির কারণে কয়েকশ' গুণ বেশি খরচ করা হয় স্বাস্থ্য খাতে। আর আমাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো দুর্নীতি রোধ করা।

ইশতেহার ঘোষণার এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সাইয়েদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মো. আব্দুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু, সহকারী অর্থ সম্পাদক জিল্লুর রহমান, নির্বাহী সদস্য আলহাজ আমীর আলী হাওলাদার ও মাওলানা ফারুক আহমেদ ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসাধারণ সম্পাদক কাজী আরিফুর রহমান প্রমুখ।