নির্বাচনী প্রচারণায় সারাদেশে নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকালে এক নারী নেত্রীর ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে জামায়াত নেতারা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, ‘তারাই গুপ্ত যারা ১৯ বছর বিদেশে পালিয়ে ছিল।’
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী বিদেশে পালিয়ে ছিল না। বরং দলটির নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে গেছেন।
আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীর জীবন ও রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পর যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, তারাই প্রকৃত গুপ্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কার্যক্রম নানা সময় বাধাগ্রস্ত করা হলেও দলটি থেমে যায়নি। জনগণের পাশে থেকে কাজ করে তারা মানুষের আস্থা অর্জন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, প্রচারণাকালে নারীদের হিজাব খুলে দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা নারীদের সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করছে এবং এ বিষয়ে দলটির শীর্ষ পর্যায় থেকে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে বোঝা যায়, দলগতভাবে নারীদের অধিকার হরণের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না উল্লেখ করে আয়েশা সিদ্দিকা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় নারী সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের সদস্যসচিব নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তারসহ বিভিন্ন থানার নেত্রীরা।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি কোনো দলের নেতাকর্মীদের হাতে মা-বোন নিরাপদ না থাকে, তবে তারা ক্ষমতায় গেলে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকবে না। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিও তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নারীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!