নির্বাচন
পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতকরণকে জামায়াতের ইশতেহার।   ছবি: সংগৃহীত

পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতকরণকে কেন্দ্রে রেখে জামায়াত তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ওঠানামার প্রভাব কমাতে দেশীয় সম্পদের অনুসন্ধান ও ব্যবহার বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

ইশতেহারের মূল প্রস্তাবনাগুলো অনুযায়ী:

দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ: আমদানি-নির্ভরতা কমাতে অনশোর ও অফশোর উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছ গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানো: পিডিবির সক্ষমতা বাড়িয়ে সিস্টেম লস হ্রাস ও বিদ্যুতের দাম কমানো হবে।

সৌর বিদ্যুতের দিকে দ্রুত রূপান্তর: ২০৩০ সালের মধ্যে বড় সোলার পার্ক নির্মাণ, ছাদের উপর সোলার প্যানেল প্রণোদনা এবং নেট মিটারিং সম্প্রসারণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দশগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানির বিকল্প: এলপিজি ও এলএনজি ব্যবহার বাড়িয়ে এগুলিকে নির্ভরযোগ্য জ্বালানির বিকল্প হিসেবে উন্নীত করা হবে।

পরমাণু শক্তি ব্যবহার: আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরমাণু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে।

কোয়লার ব্যবহার সীমিতকরণ: পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশের কয়লার ব্যবহার সীমিত করা হবে এবং বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে।

নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা বৃদ্ধি: বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (BERC) স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

দুর্নীতি ও অপচয় হ্রাস: কুইক রেন্টালসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সকল স্তরে দুর্নীতি ও অপচয় রোধ করা হবে।

দেশীয় তেল শোধনাগার: দক্ষ ও উন্নত তেল শোধনাগার স্থাপন করে জ্বালানির দাম কমানো এবং স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি করা হবে।

জামায়াতের ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনে স্থায়ী সুবিধা নিশ্চিত করবে।