আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপি। তবে নির্বাচনের পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে কার্যকর বিরোধী দলের প্রশ্ন তৈরি হয়। তাঁর ভাষায়, ‘আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করি? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?’
তারেক রহমান বলেন, জামায়াত কতটি আসন পাবে, তা তিনি জানেন না। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে তিনি তাদের কাছ থেকে একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করবেন।
প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বর দেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তরুণদের নেতৃত্বে অভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেন। শেখ হাসিনা ছিলেন তারেক রহমানের মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি সাম্প্রতিক সময়ে আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিএনপি ও জামায়াত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত একসঙ্গে দেশ শাসন করেছিল। সম্প্রতি জামায়াত জানিয়েছে, দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকার গঠনের জন্য তারা আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহী।
তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান সে প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করেন। তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই–তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। নির্বাচনে বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে জোট শরিকেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নিজে কত আসনে জয় আশা করছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।’
সব জনমত জরিপেই বিএনপির এগিয়ে থাকার আভাস মিলেছে। তবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের কাছ থেকে দলটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও জরিপগুলোতে উঠে এসেছে। তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘জেন–জি-দের দল এনসিপিও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে যুক্ত হয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারে এলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে না। বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষা করে যারা দেশের মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে অগ্রাধিকার।
শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যতে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে এবং স্বাগত জানায়, তাহলে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। তাঁর পতনের আগে ও পরে দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এবং পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়েছেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!