বিএনপির ইশতেহার, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই সনদ, গণভোট, দুদক, পিএসসি,
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।   ছবি: আরটিএনএন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বেশকিছু জায়গায় অস্ত্রের মজুদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান তিনি। পূর্বঘোষিত সময় সন্ধ্যা ৬টা থাকলেও প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের মাঠে বেশকিছু জায়গায় অস্ত্রের মজুদ হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উচিৎ এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া। অনেক প্রার্থীরা উঠান বৈঠকে ভোটারদের হুমকিও দিচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের তেমন কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পরেও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। যেটি তাদের ইশতেহারে ফুটে উঠেছে।

এদিন সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের বিচার হবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। বিএনপি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এমন কিছু বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হলে, সেটি রাজপথে মোকাবিলা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, ইশতেহার বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইশতিয়াক আকিব, যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য রাখেন মনিরা শারমিন। তিনি বিএনপির ইশতেহার এবং ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং এসব ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর বক্তব্য দেন এনসিপির ইশতেহার উপ-কমিটির সদস্য সচিব ইসতিয়াক আকিব। তিনি বলেন, বিএনপির ইশতেহারে জুলাই সনদ ও গণভোটের বিরুদ্ধে যে অবস্থান নেয়া হয়েছে, তা জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল।

তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের মাধ্যমে পিআর পদ্ধতিতে একটি ক্ষমতাসম্পন্ন উচ্চকক্ষ গঠন এবং সেই উচ্চকক্ষকে সংবিধান সংশোধনের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিএনপি তাদের ইশতেহারে এর বিরোধিতা করে নিম্নকক্ষের আসনসংখ্যার অনুপাতে, নির্বাচনের পর তালিকা দিয়ে একটি আলঙ্কারিক ও ক্ষমতাহীন উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা জুলাই সনদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, দুদক ও পিএসসির নিয়োগ প্রশ্নেও বিএনপি একই ধরনের সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। ফলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও সংবিধান সভায় বিএনপি গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে কি না—সে প্রশ্ন উঠেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বললেও দলটির অনেক নেতাকর্মীর মধ্যে প্রকাশ্য ও গোপনে ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির সংস্কারবিরোধী ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন ইসতিয়াক আকিব।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ অংশে বক্তব্য দেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। তিনি বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু রাজনৈতিক দল অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, লঘু অপরাধে এনসিপিসহ কিছু নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীদের শোকজ ও জরিমানা করা হলেও যারা প্রকাশ্যে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এছাড়া রাত ৮টার পর মাইক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বড় রাজনৈতিক দলগুলো তা মানছে না এবং যেখানে তিনটি মাইক ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে তারা ২০০–৩০০ মাইক ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া বলেন, মানুষ সাধারণত ভোটের আগে এক কথা বলে, পরে ক্ষমতায় গিয়ে আরেক কাজ করে। কিন্তু বিএনপি ভোটের আগেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেও তারা নিজেদের ইশতেহারের মাধ্যমে জুলাই সনদের বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কোনো নিশ্চয়তা নেই, এটি এখন পরিষ্কার হয়ে গেছে।