নির্বাচন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সেনাবাহিনীকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান এবং তাদের পেশাদারিত্ব, মর্যাদা ও গৌরব অক্ষুণ্ণ রাখা সবার দায়িত্ব।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে হোটেল রেডিসনে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুদৃঢ় আস্থায় স্লোগানে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ সেনা পরিবারের সদস্য, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে তিনি নিজের বৃহত্তর পরিবারের অংশ হিসেবে মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর তার পরিবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি গভীর আস্থা ও সম্মান পোষণ করত। তার ভাষ্য, তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও সবসময় মনে করতেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, জনগণ সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রহরী হিসেবে বিবেচনা করে। তবে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করা হলে বাহিনীর মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয়। তারেক রহমানের দাবি, বিগত সময়ে বিভিন্ন কারণে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বাহিনীর জন্য সুখকর ছিল না।

বক্তব্যে তিনি ২০০৯ সালের বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং ওই ঘটনায় নিহত সেনা সদস্যদের স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে সেনা দিবস, সেনা হত্যাকাণ্ড দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণার বিষয়েও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালা সংশোধন ও সংস্কারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সাবেক ও বর্তমান সামরিক কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, তবে সরাসরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া বাহিনীর পেশাদারিত্বের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিজেদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার পক্ষে কাজ করেছে। একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবেশ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সুদৃঢ় করে এবং এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা রক্ষা সহজ হয়।

তারেক রহমান আরও জানান, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‍্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন’ ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ দাবিটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে সশস্ত্র বাহিনী ভবিষ্যতেও তাদের পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে।