জামায়াত নেতৃত্বধীন ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও হামিদুর রহমান আযাদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এবার তিনি ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
৮ ফেব্রুয়ারি, রোববার রাজধানীর বাড্ডায় ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘যুবক বন্ধুরা, তোমরা তৈরি হয়ে যাও বাংলাদেশের দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য। নাহিদ ইসলামকে এখানে আমরা প্রার্থী করেছি। ইনসাফের বাংলাদেশের পক্ষে জনগণের রায় অর্জিত হলে সেই সরকারে অবশ্যই নাহিদ ইসলামকে আপনারা একজন মন্ত্রী হিসেবে দেখবেন। আমরা হাতে হাত ধরে একসঙ্গে কাজ করব। এই নাহিদ ইসলামরা আগামী দিনের বাংলাদেশ নামের জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করবে। আর আমরা পেছনের সিটে প্যাসেঞ্জার হিসেবে থাকব। আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে এরা নিয়ে যাবে।’
‘বাংলাদেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ দেশের মানুষ মেধাবী এবং পরিশ্রমী। অতীতের নেতৃত্বের মধ্যে সততার অভাব ছিল। তাদের মধ্যে দুর্নীতি থেকে হাতকে মুক্ত রাখার সেই শপথ ছিল না, দেশের প্রতি দায় ছিল না। এজন্যই বাংলাদেশ আগাতে পারেনি। আমরা আশা করব, যুবকরা আমাদেরকে হতাশ করবে না। তারা আমাদেরকে সামনে নিয়ে এগিয়ে যাবে’, যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের এক নির্বাচনী জনসমাবেশে জামায়াত আমির জানান, ১১-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের নায়েবে আমির ও ওই আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে মন্ত্রী পরিষদের সিনিয়র সদস্য করা হবে।
এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি, কক্সবাজারের মহেশখালীতে আরেক নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান মহেশখালী–কুতুবদিয়া আসন থেকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচিত হলে তাকেও সরকারে একজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতে পারে বলে জানান। তিনি বলেন, হামিদুর রহমান আযাদ ওই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের সাহসী কণ্ঠস্বর।
এ দিকে তিন প্রার্থীর নাম প্রকাশ্যে ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—তাহলে বাকিরা কারা? ১১-দলীয় জোট সরকার গঠন করলে জামায়াত কিংবা শরিক অন্যান্য দল থেকে আর কোন নেতারা মন্ত্রী পরিষদে জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট কয়েকজনকে সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার কৌশলের মাধ্যমে জামায়াত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোটের মাঠে বাড়তি প্রভাব তৈরির চেষ্টা করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা নিয়ে এখনো দল বা জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সব মিলিয়ে, তিন মন্ত্রীর নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১১-দলীয় জোটের ক্ষমতা–ভাবনা আংশিকভাবে সামনে এলেও, ‘বাকিরা কারা’—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও রয়েই গেছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!