ভোটের শেষ সময়ে প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন তারেক-শফিক
ভোটের শেষ সময়ে প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন তারেক-শফিক   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ এক পৃথক প্রতিক্রিয়ায় দুই শীর্ষ নেতা নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি, ভোটারদের প্রত্যাশা এবং দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। শেষ মুহূর্তের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন জায়গায় এখনো কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটছে। একটি রাজনৈতিক দল এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা বারবার ঘটিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমরা চাই না, এসব ঘটনা ঘটুক।

তিনি বলেন, ‘ভোট সংখ্যা যত বাড়বে, আমরা বিশ্বাস করি সকল ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা যাবে। যারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে, তাঁদের প্রতি মানুষের বিরূপ ধারণা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

নির্দিষ্ট করে কারও প্রতি অভিযোগ না তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘তাঁরা বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করার কিংবা অনৈতিক কাজ করার চেষ্টা করছেন। কাজেই তাঁদের প্রতি নিশ্চয়ই মানুষের বিরূপ ধারণা হবে।’

ভোট গণনায় দেরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ। বিষয়টি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোট গণনা কেন দেরি হবে? দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই। সমগ্র দেশের মানুষ ভোট দিয়ে এসেছে, তাঁরা ফল দ্রুতই চাইবে। আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করবে, দেশের মানুষ যাতে দ্রুত ভোট প্রদানের ফল জানতে পারে।’

ভোটের ফল মেনে নেওয়ার প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচন যদি নিরপেক্ষ হয়, বিতর্কহীন হয় তাহলে কেন মেনে নেব না, অবশ্যই সব দলই মেনে নেব। তবে অবশ্যই একটা শর্ত আছে, নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে হবে, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে হবে। আমরা যেরকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখছি, যেভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে—এরকম বিষয় তো অবশ্যই মেনে নেওয়া যাবে না, কেউই মেনে নেব না।’

এদিকে বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জামায়াত আমির বলেন, আজ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের দিন। কেউ হয়তো আপনার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাদেরকে কোনো সুযোগ দেবেন না।

পোস্টে তিনি বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আজ আপনাদের বিজয়ের দিন। আজ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের দিন। কেউ হয়তো আপনার অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাদেরকে কোনো সুযোগ দেবেন না। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা ১৭ বছর ধরে লড়াই করে এসেছি। সেই পুরনো ফ্যাসিবাদকে আর নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আপনাদের সামনে ঘটে যাওয়া সকল অনিয়ম রেকর্ড করুন এবং মানুষকে জানিয়ে দিন কারা এর সাথে জড়িত। সত্য প্রকাশিত হোক। মিথ্যার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।