বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত
বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে খেলাফত মজলিসের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত।   ছবি: সংগৃহীত

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেছেন, বাংলাদেশের নবগঠিত সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করতে চায়। আদালতের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে গণভোটকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলকে অবশ্যই অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। গণভোটে বিশাল ব্যবধানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। তাই গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বিল উত্থাপন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ ক্ষমা করবে না। আমরা বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী সরকার দেখতে চাই না।

তিনি বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপর হামলা আমরা মেনে নিতে পারি না। একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক কোন রীতিতেই পড়ে না। এই হামলায় হাজারো নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। শান্তিকামী বিশ্বকে আহ্বান করছি ইরানের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিনষ্টকারী রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য। পবিত্র মাহে রমজানের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল আগ্রাসী শক্তির মোকাবেলা করে বিজয় অর্জন করতে হবে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।

বিকাল ৪টায় খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে পল্টনস্থ ফারস্ হোটেল এন্ড রিসোর্টসের সিন্দুরপুর হলে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও জুলাই অভ্যুত্থান রক্ষা করা হবে। জুলাই টিকে না থাকলে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় নির্বাচন ও নবগঠিত সরকার কারোরই অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই চেতনা রক্ষা করব। বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেওয়া হবে না। কেউ অন্যায় করে আর পার পাবে না।

খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও অধ্যাপক আবদুল জলিলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিস সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক , মাওলানা সাইয়েদ ফিরদাউস বিন ইসহাক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এবি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঞা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির মাওলানা ঈশা শাহেদী, বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, ব্রুনেই দারুসসালামের হাই কমিশনার রোজাইমি আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আবদুল্লাহ, ডেইলি নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব বাসির জামাল, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. তারেক ফজল, খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক আবদুল করিম, ইসলামী যুব মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির, খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুস সামাদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মাওলানা এরশাদুল হক, আলহাজ্ব ফজলুল হক, এআরএম আব্দুল মতিন প্রমুখ।