দরিদ্রতার কারণে কিশোর বয়সে বাড়ি বাড়ি দুধ ফেরি করে বিক্রি করতেন সোহেল আহমেদ (২৫)। ওই সময় পাশের গ্রামের মরিয়ম নামের এক কিশোরীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে সোহেলের। বছর না ঘুরতেই দু’জনে বিয়ের পিঁড়িতে বসে। এর দুই বছর পর সোহেল-মরিয়মের ঘর আলো করে পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। আদর করে মা-বাবা নাম রাখেন মাহিন।
এর মধ্যে ঢাকার সাভারে একটি মুদি দোকানে কাজ নেন সোহেল। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই কাশির সাথে রক্ত আসায় ডাক্তার দেখানোর পর সোহেলের গলায় ধরা পড়ে ক্যানসার। বাড়ি ফিরে আসেন সোহেল। গরু বিক্রি ও ধারদেনা করে চিকিৎসা করিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এরপর স্বামী-সন্তানকে ফেলে রেখে বাবার বাড়ি ফিরে যান মরিয়ম। কয়েকদিনের মধ্যে স্বামী সোহেল আহমেদকে ডিভোর্স লেটার পাঠান মরিয়ম।
এখানেই শেষ নয়, ডিভোর্স দেওয়ার কয়েকদিন পরেই অন্য এক ছেলেকে বিয়ে করেন মরিয়ম খাতুন। একদিকে ক্যানসার, অন্যদিকে স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করায় অনেকটাই বাগরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার শাহপুর গ্রামের সোহেল আহমেদ। টাকার অভাবে এখন চিকিৎসা বন্ধ একসময়ের কর্মঠ যুবক সোহেলের। নিতে পারছেন না কেমোথেরাপি।
তিন থেকে চার লাখ টাকা হলেই চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোহেলের-এমনটাই জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ক্যানসার বিভাগের চিকিৎসকরা। কিন্তু টাকার কাছে হেরে যেতে বসেছে অসহায় পরিবারটি। এখন মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তরতাজা যুবক সোহেল। তবে, একমাত্র ছেলে মাহিনের জন্য বাঁচতে চান তিনি। কিন্তু কোথায় পাবেন তার চিকিৎসার টাকা?
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোহেলের মা শাকিলা খাতুন জানান, ‘তিন সন্তানের মধ্যে সবার বড় সোহেল। সন্তানরা ছোট থাকতেই শাকিলা খাতুনকে তালাক দেন স্বামী শুকুর আলি। এরপর থেকে অনেকটা নিজে লড়াই করে বড় করে তুলেছেন সন্তানদের। অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয়েছিল সোহেলকে।’
তিনি বলেন, ‘অভাব থাকলেও ভালোই চলছিল তাদের। কিন্তু ক্যানসার ধরা পড়ায় সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে। স্ত্রীও ডিভোর্স দিয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে করে। ধারদেনা করে এবং সর্বস্ব খুঁইয়ে ছেলের চিকিৎসা করিয়েছেন। ৩টি কেমোথেরাপি দিয়ে থেমে গেছেন। আর তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। এখন চেয়ে চেয়ে ছেলের মৃত্যু দেখা ছাড়া উপায় নেই-এমনটাই বলেন শাকিলা খাতুন।’
বাঁচার আকুতি জানিয়ে ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়ে সোহেল আহমেদ বলেন, ‘ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম। অভাব থাকলেও সুখেই কাটছিল দিন। কিন্তু ক্যানসার হওয়ার কথা শুনে এবং বাঁচার সম্ভাবনা কম বলে স্ত্রীও ছেড়ে চলে গেছে এবং অন্য জায়গায় বিয়ে করেছে। এখন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। আমি মরে গেলে আমার মা ও ছেলের কী হবে?’
সরকারি সহযোগিতার ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা জানান, ‘সমাজসেবা অফিসে আবেদন করার পর সরকারিভাবে অল্প কিছু টাকা চিকিৎসা সহায়তা বাবদ পাবে। কিন্তু সেটা দিয়ে পুরো চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটানো সম্ভব নয়।’
সোহেলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারে- ০১৭০৮-৭২৯০৩৪
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!