ঠাট্টা করে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে?
ঠাট্টা করে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে?   ছবি: সংগৃহীত

আমরা অনেক সময় মজা করে অনেক কিছু বলে ফেলি। যার পরিণতি শরিয়তের দৃষ্টিতে মারাত্মক হতে পারে। বিশেষ করে বিয়ে, তালাক এবং তালাকের পর স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণের মতো বিষয়ে ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

ইসলামে বিবাহ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ইবাদত। এটি শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; বরং শরিয়তের দৃষ্টিতে একটি শক্তিশালী চুক্তি (عقد)। যেমন- একটি ছেলে তার কিছু বন্ধু-বান্ধবের সামনে কোনো মেয়েকে মজা করে বলল- 'আমি তোমাকে বিয়ে করলাম'। তখন মেয়েটি যদি উত্তরে বলে- 'আমি কবুল করলাম'। এমন পরিস্থিতিতে কি তাদের মধ্যে শরিয়তসম্মত বিবাহ সংঘটিত হবে?

ইসলামি শরিয়ত এবং আইনি দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী যা জানা যাচ্ছে-

১. ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে-
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, বিয়ে এমন একটি চুক্তি যেখানে ঠাট্টা বা তামাশার কোনো স্থান নেই। একটি প্রসিদ্ধ হাদিস অনুযায়ী (আবু দাউদ, তিরমিজি), তিনটি বিষয় এমন রয়েছে যা সিরিয়াসলি বললেও যা হয়, ঠাট্টা করে বললেও তা-ই হয়। সেগুলো হলো: বিয়ে, তালাক এবং রাজআত (তালাক থেকে ফিরিয়ে আনা)।

তাই যদি নিচের শর্তগুলো পূরণ হয়, তবে ঠাট্টা করে 'কবুল' বললেও বিয়ে হয়ে যেতে পারে।
সাক্ষী: অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে এই শব্দ বলা হয়।
প্রস্তাব ও গ্রহণ (ঈজাব ও কবুল): একজন বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং অন্যজন তা গ্রহণ করে।
অন্যান্য শর্ত: ছেলে ও মেয়ে উভয়েই বিয়ের উপযুক্ত হওয়া এবং কোনো প্রতিবন্ধকতা (যেমন মাহরাম বা রক্তের সম্পর্ক) না থাকা।

২. আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য এটি রেজিস্ট্রি হওয়া বাধ্যতামূলক। শুধু মুখে 'কবুল' বললে আইনগতভাবে সেটির প্রমাণ রাখা কঠিন এবং রাষ্ট্রীয় আইনে সেটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ের মর্যাদা পায় না যতক্ষণ না তা নিবন্ধিত হচ্ছে। তবে ধর্মীয়ভাবে এটি একটি জটিলতা তৈরি করে।

সতর্কতা
বিয়ে কোনো খেলার বিষয় নয়। তাই বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত মহলে মজার ছলেও এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এটি আপনার অজান্তেই আপনার জীবন ও ধর্মীয় অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন বা জটিলতা নিয়ে আসতে পারে।

ইসলামে বিবাহ, তালাক ও দাম্পত্য সম্পর্ক কোনো খেলাচ্ছলে নেওয়ার বিষয় নয়। কথার গুরুত্ব, নিয়তের ভার এবং শরিয়তের বিধান সব কিছুই এখানে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

তাই হাসি-ঠাট্টা করে হলেও সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়। আমাদের উচিত এসব বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা। অজ্ঞতাবশত হারাম বা জটিলতায় না পড়া এবং ইসলামের বিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা।

এমএস নাঈম/আরটিএনএন