রাষ্ট্রপতি, বিএনপি
সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।   ছবি: আরটিএনএন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে দলটি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতির পদে কে আসীন হবেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও গুঞ্জন।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—এই দুই নেতার মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে। গুলশান কার্যালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

একটি সূত্র জানায়, নির্বাচনে জয়ী হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথমেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বসানো হতে পারে এবং খুব শিগগিরই এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

অন্যদিকে আরেকটি সূত্রের দাবি, বয়োজ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে ড. আবদুল মঈন খানই তারেক রহমানের প্রথম পছন্দ। সে ক্ষেত্রে তাকেই রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেসরকারিভাবে ৭২ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এই নেতা লেখাপড়া শেষে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। পরে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেন। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি মহাসচিব নির্বাচিত হন।

অপরদিকে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ড. আবদুল মঈন খান ৯২ হাজার ৭৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৯৩৩ ভোট। ১৯৪৭ সালের ১ জানুয়ারি নরসিংদী জেলায় জন্মগ্রহণকারী ড. মঈন খান একজন শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও রাজনীতিবিদ। ২০০১-২০০২ সালে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তথ্য মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপতি পদে শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।