ভূমিকম্প
ভূমিকম্প প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলেও এটি মানুষের জন্য সতর্কবার্তা।   ছবি: সংগৃহীত

কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে, ভূমিকম্প প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলেও এটি মানুষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে আসে। আল্লাহ তায়ালা এই সংকেতের মাধ্যমে মানুষকে তাদের ভুল, অন্যায় ও পাপচক্র থেকে ফেরানোর সুযোগ দেন। মানুষ যাতে সঠিক পথে ফিরে আসে, তা নিশ্চিত করার জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “এখনো কি এই জনপদের অধিবাসীরা নিশ্চিন্ত যে, আমার আজাব রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তারা ঘুমে অচেতন?” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৯৭) এবং “বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিশ্চিন্ত হতে পারে শুধু তারা, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।” (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৯৯)।

অতএব, সুখ-সাচ্ছন্দ্যের সময়েও মানুষের উচিত নিজের আমল ও কাজকর্ম নিয়ে সতর্ক থাকা। কখনও যেন গাফেল না হয়ে যায়, সেই সচেতনতা বজায় রাখা জরুরি। মহান আল্লাহ আরও বলেন, “যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা তোমাদের নিজেদের হাতের উপার্জনের প্রতিফলন।” (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৩০)

ঐতিহাসিক ও হাদিসের বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যখন সমাজে অন্যায়, পাপাচার ও অবিচার বেড়ে যায়, মানুষের স্বার্থান্বেষী আচরণ দেখা দেয়, তখনই আল্লাহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় যেমন ভূমিকম্প, ভূমিধস ও অন্যান্য দুর্যোগের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশাপাশি নানা সামাজিক অস্থিরতার সময়ে যে বিপদসমূহ আসবে, তারও উল্লেখ করেছেন, যা মানুষের আত্মপুনর্বিবেচনার সুযোগ হিসেবে আসে।

ভূমিকম্প শুধুই ধ্বংস নয়; এটি মুমিনের জন্য আত্ম-সংযম, পাপ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর প্রতি ফিরে আসার প্রতীক।

সিমু/আরটিএনএন