ঐতিহাসিক মসজিদ, কাজী জালাল  উদ্দীন, ন্যাশনাল হেরিটেজ, পুরাতন মসজিদ, সব থেকে পুরাতন মসজিদ,
কাজী জালাল উদ্দীন।   ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী মহানন্দা নদীর তীরঘেঁষা এলাকায় নির্মিত এই ছোট্ট জামে মসজিদটি। ধারণা করা হয়, প্রায় ৭৯০ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয়। তবে কে এটি নির্মাণ করেছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত এটি কাজী জ্বালালের মসজিদ নামেই অধিক পরিচিত।

এই নামকরণের অন্যতম কারণ হলো, মসজিদটি মরহুম কাজী জালাল উদ্দিন আহমদের ৩০০ বিঘা আমবাগানের ভেতরে অবস্থিত। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন। ফলে স্থানীয়দের কাছে এটি কাজী জালাল উদ্দিন আহমদের মসজিদ হিসেবেই পরিচিতি পায়।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. মঈনুদ্দিন বলেন, “আমি ২০০০ সাল থেকে এই মসজিদে ইমাম হিসেবে কর্মরত আছি। এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করা হয়।” স্থানীয়রা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁরা মসজিদটি দেখে আসছেন। এটি ঐতিহাসিক সময়ের এক নিদর্শন হিসেবে এখনো দাঁড়িয়ে আছে। দূরদূরান্ত থেকে অনেকে মসজিদটি দেখতে আসেন। পাশের আমবাগানে দর্শনার্থীরা পিকনিকও করেন।

অনেকে মনে করেন, এটি দেশের অন্যতম ছোট জামে মসজিদ।

কাজী জালাল উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক যোগাযোগ ও শিক্ষা সচিব এবং সমাজসেবী ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরিতে দক্ষ ও প্রভাবশালী প্রশাসক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং কর্মজীবনে সাফল্য ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজে তিনি “কাজী জালাল উদ্দিন আহমদ বিজ্ঞান ভবন” নির্মাণ করেন।

এ ছাড়া তিনি ১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত ঐতিহাসিক গিলাবাড়ি জামে মসজিদ পুনর্নির্মাণ করেন এবং তাঁর সেবা ফান্ডের মাধ্যমে এর পরিচালনা ও অর্থায়ন করতেন। ১৯৯২ সালে তাঁর লেখা ‘Administrative Leadership’ বইটি প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী গ্রাম ভোলাহাটে ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি তিনি এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ড. কাজী আজাহারউদ্দীন এবং মাতার নাম কানিজ জোহুরা।

তিনি মালদহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৪৬ সালে ম্যাট্রিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫১ সালে রসায়নে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএসসি সম্পন্ন করে পাকিস্তান সরকারের সিভিল সার্ভিস ক্যাডারে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন। ১৯৬০ সালে তিনি পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক হন।

পরবর্তীকালে তিনি যোগাযোগ সচিব, শিক্ষা সচিবসহ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৯ সালে প্রতিরক্ষা সচিব পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

২০০৫ সালের ২৩ নভেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর নির্মিত বিশাল আমবাগানের ভেতরে অবস্থিত জামে মসজিদের পাশেই তাঁকে দাফন করা হয়। সেখানে তাঁর পিতা-মাতাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কবরও রয়েছে।

আরবিএ/আরটিএনএন