রমাদান, রমজান, রোজা, বুকের দুধ, শিশু, মায়ের কোলে ছোট্ট শিশু, ধর্ম, লাইফস্টাইল,
রোজা রেখে শিশুকে দুধ পান করানো কী বলছে শরিয়াত।   ছবি: সংগৃহীত

রোজার মাসে অনেক মায়ের মনে প্রশ্ন জাগে, কোলের শিশুকে দুধ খাওয়ানো অবস্থায় রোজা রাখা যাবে কি না। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

যদি কোনো দুগ্ধদানকারী মা রোজা রাখার কারণে শিশুর প্রয়োজনীয় দুধ সরবরাহ করতে না পারেন এবং সন্তান অন্য খাবারে অভ্যস্ত না হওয়ায় তার জীবন বা স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে তিনি রোজা ভাঙতে পারবেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ওই রোজাগুলো কাজা করে নেওয়ার বিধান রয়েছে।

হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের জন্য যেমন রোজার বিধান শিথিল করেছেন, তেমনি গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী নারীর ক্ষেত্রেও ছাড় দিয়েছেন (জামে আত-তিরমিযী)। অর্থাৎ সন্তানের নিরাপত্তা ও মায়ের শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দিয়েই এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মায়েরা চাইলে সন্তানকে পূর্ণ দুই বছর পর্যন্ত দুধ পান করাতে পারবেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনাতেও দুই বছর সময়সীমার কথা উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ শরিয়ত অনুযায়ী সন্তানের দুধপানের নির্ধারিত সময় দুই বছর পর্যন্ত।

তবে বর্তমান সময়ে শিশুদের জন্য বিকল্প পুষ্টিকর খাবার ও গুঁড়ো দুধ সহজলভ্য। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে শিশুকে অন্য খাবারে অভ্যস্ত করানো যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ধাপে ধাপে দুধ কমিয়ে আনলে শিশুর জন্য তা সহজ হয়।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, ইসলামে সন্তানের জীবন ও সুস্থতা সর্বাগ্রে বিবেচ্য। রোজা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে শরিয়ত সেই ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে।

সিমু/আরটিএনএন