শহীদ আফ্রিদি, বিসিবি
আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি   ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে  আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার (বর্তমানে এক্স) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার এই ক্ষোভের কথা উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবীর মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে শুরুতে বাদ দেয়া হয় আইপিএল এর দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে। পরে পরিস্থিতি আরো শোচনীয় হয় যখন আইসিসির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক দল তিনটি কারণ দেখিয়ে ভারতে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে। মুস্তাফিজের অংশগ্রহনের পাশাপাশি সেখানে আরো দুই কারণ হিসেবে বলা হয়, বাংলাদেশের পতাকা ও জার্সি নিয়ে সমর্থকদের ঘুরে বেড়ানো এবং বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনজনিত রাজনৈতিক অস্থিরতা। এসবকে আমলে নিয়ে বিসিবি যখন ভারত থেকে বাংলাদেশের ভেন্যু সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেয়ার আবেদন করে তখন তা খারিজ করে আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতেই খেলার একমাত্র বিকল্প দেয়। আর সেই বিকল্প পথ পরিহারে অবিচল থাকায় আইসিসি এরই মধ্যে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অলরাউন্ডার।

আফ্রিদির ক্ষোভ টুইট বার্তা :
শহীদ আফ্রিদি তার ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ক্রিকেট একটি ভদ্রলোকদের খেলা এবং এটি রাজনীতি থেকে মুক্ত থাকা উচিত। বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো সিদ্ধান্ত হবে ক্রিকেটের জন্য এক বড় ক্ষতি। দেশটির কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর আবেগকে এভাবে উপেক্ষা করা যায় না। আইসিসির উচিত কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পুনর্বিবেচনা করা।” আফ্রিদি আরও বলেন, “মাঠের বাইরের রাজনীতির প্রভাব মাঠের খেলায় পড়া উচিত নয়। বাংলাদেশ গত এক দশকে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। তাদের বাদ দেওয়া মানে এশিয়ান ক্রিকেটের সৌন্দর্য নষ্ট করা।”

গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া :
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এবং ক্রিকেট পাকিস্তান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিদি একটি টিভি শোতে কথা বলার সময়ও এই বিষয়ে তার অসন্তোষ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি যদি সত্যিই এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পক্ষপাতমূলক। আমরা চাই বাংলাদেশ তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে মাঠে লড়াই করুক।”

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবরে বলা হয়েছে, আইসিসির এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে আফ্রিদির মতো অনেক সাবেক ক্রিকেটারই মনে করেন, খেলাধুলাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখা উচিত।

আরটিএনএন/এআই