বিগত কয়েক দিনের সব বিতর্ককে ছাপিয়ে এক জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে পর্দা উঠল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। বলিউড কুইন নোরা ফাতেহি এবং জনপ্রিয় র্যাপার বাদশার অনবদ্য পারফরম্যান্সে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয় পুরো স্টেডিয়াম। বিশেষ করে নোরার ছন্দময় ও উদ্দাম নৃত্য উপস্থিত দর্শকদের বুঁদ করে রেখেছিল। আলোর ঝলকানি আর সুরের মূর্ছনায় সাজানো এই অনুষ্ঠানটি ক্রিকেট বিশ্বের সামনে আসরটির এক রঙিন সূচনা তুলে ধরেছে।
নানা বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের। বিশেষ করে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে আইসিসি এখনো আলোচনা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এতসব বিতর্কের মাঝেই গতকাল জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইসিসি সভাপতি জয় শাহ এবং ২০২৪ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সাবেক ভারতীয় অধিনায়কের ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশের মুহূর্তটি ছিল দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। উদ্বোধনী দিনের সন্ধ্যায় স্বাগতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ম্যাচে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা দিনের বাকি দুটি ম্যাচের তুলনায় ছিল অনেক বেশি।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হলেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম দিনেই তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলম্বোতে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছে সাবেক চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান।
একই দিনে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে 'সি' গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্য জানান দিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর দিনের শেষ ম্যাচে ঘরের মাঠে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় স্বাগতিক ভারত।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচটিতে দর্শকদের মাঝে কোনো আগ্রহই লক্ষ্য করা যায়নি। ৬৫ হাজার দর্শকধারণ ক্ষমতার এই বিশাল স্টেডিয়ামে ম্যাচটি দেখতে ৩ হাজার দর্শকও উপস্থিত হননি, এমনকি স্টেডিয়ামের বাইরেও বিশ্বকাপের কোনো আমেজ ছিল না। মূলত এবারের আসরে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিতে স্কটল্যান্ড সুযোগ পাওয়ায় গ্যালারিতে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কলকাতায় বাংলাদেশের ম্যাচগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড় এবং দর্শকদের ব্যাপক উন্মাদনা। স্কটল্যান্ডের পরিবর্তে বাংলাদেশ এই ম্যাচে থাকলে ইডেনের দৃশ্যপট যে একেবারেই ভিন্ন ও প্রাণবন্ত হতে পারত, তা দর্শকদের এই অনাগ্রহ থেকেই স্পষ্ট।
কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচেও গ্যালারির চিত্র ছিল হতাশাজনক। মাত্র ১০ হাজার দর্শকধারণ ক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে সিংহভাগ আসনই ফাঁকা ছিল; এমনকি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট থেকে বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ দিলেও দর্শকদের মাঠে টানা সম্ভব হয়নি।
এবারের আসরে পাঁচ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে ২০টি দল। যার মধ্যে ১১টি আইসিসির পূর্ণ সদস্যের দল এবং ৯টি আইসিসির সহযোগী সদস্য। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ বাদ দিলে টুর্নামেন্টে থাকে ৪৪টি ম্যাচ। দর্শকদের মাঠে টানতে দরকার হাইভোল্টেজ ম্যাচ। ২০ দলের লড়াইয়ে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোতে চার ভাগের তিন ভাগ ম্যাচের ফলাফল আগে থেকে আঁচ করা যাচ্ছে, যদি না কোনো অঘটন ঘটে। ফলে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে তেমন আগ্রহ নেই সমর্থকদের।
এছাড়া ভারতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর দর্শক ও ক্রিকেটারদের পোহাতে হচ্ছে তীব্র ভিসা জটিলতা, যা এবারের আসরে দর্শক খরার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রায়হান/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!