ম্যাচে হওয়া সেই নো বলের দৃশ্য
ম্যাচে হওয়া সেই নো বলের দৃশ্য   ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি নো বল ঘিরে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে ক্রিকেটবিশ্বে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে পাকিস্তানি পেসার আসাদ আখতারের করা অস্বাভাবিক বড় একটি নো বল, যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ঘটনাটি ঘটে পাকিস্তানের ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপের একটি ম্যাচে।

গত শনিবার (১৪ মার্চ) পেশাওয়ারের ইমরান খান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে লাহোর ব্লুস ও করাচি ব্লুসের মধ্যকার ম্যাচে চাপের মুখে পড়েন করাচি ব্লুসের বোলার আসাদ আখতার। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ এক ওভারে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ওই ওভারেই খরচ করেন ২১ রান। শুধু রানই নয়, লাইন ও লেংথেও বড় ধরনের সমস্যায় পড়েন এই পেসার; একই ওভারে করেন দুটি ওয়াইড এবং দুটি নো বল।

এর মধ্যে একটি নো বল বিশেষভাবে নজর কাড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের। ডেলিভারির সময় তার সামনের পা বোলিং ক্রিজ অনেকটা অতিক্রম করে যায়, যা চোখে পড়ার মতো স্পষ্ট ছিল। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ২০১০ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরের করা সেই কুখ্যাত নো বলের সঙ্গে এর তুলনা টানতে শুরু করেন— যে ঘটনা পরে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বহু ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, নো বলটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে তা পুরোনো বিতর্কের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন, একই ওভারে একাধিক ওয়াইড ও নো বল হওয়ায় ঘটনাটি স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় ভুলের বাইরে মনে হতে পারে। বিশেষ করে একটি ডেলিভারি স্বাভাবিক সীমার অনেক বাইরে চলে যাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে মত দেন কিছু ক্রিকেটভক্ত।

তবে এখনো পর্যন্ত ম্যাচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা অভিযোগের কথা জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ও বিশ্লেষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এদিকে এই বিতর্কের মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ২০১০ সালের বহুল আলোচিত স্পট-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির নতুন কিছু তথ্য, যা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার ও নির্বাচক আব্দুল রাজ্জাক। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে, ইংল্যান্ড সফরের সময় কীভাবে প্রথম সন্দেহের সূত্র পাওয়া যায় এবং ধীরে ধীরে দলের ভেতরে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

রাজ্জাক জানান, লন্ডনে থাকা তার এক পরিচিত ব্যক্তি, যিনি খণ্ডকালীন মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতেন, সন্দেহজনক কিছু বার্তার মাধ্যমে প্রথম ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ইঙ্গিত পান। ওই ব্যক্তি একটি ফোন মেরামতের সময় বুকি মাজহার মজিদ ও কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তা দেখতে পান, যেখানে স্পট ফিক্সিংয়ের পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ ছিল বলে দাবি করেন রাজ্জাক।

তার ভাষ্যমতে, বিষয়টি জানার পর তিনি সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদিকে অবহিত করেন। পরে দলের ভেতরে এ নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আফ্রিদি সরাসরি মুখোমুখি হলে তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমির প্রথমে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছিলেন বলেও দাবি করেন রাজ্জাক।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের সেই কেলেঙ্কারিতে বুকি মাজহার মজিদসহ পাকিস্তানের তৎকালীন অধিনায়ক সালমান বাট এবং পেসার মোহাম্মদ আসিফ ও মোহাম্মদ আমির স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে শাস্তি পান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বর্তমান ঘটনার ক্ষেত্রে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা তদন্ত শুরু হয়নি হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি নো বল আবারও ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন আলোচনা উসকে দিয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা মনে করছেন, এমন বিতর্ক এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পয়েন্ট করে নয় ধারাবাহিকভাবে বিস্তারিত নিউজ করে দাও