ঈদের আগে-পরে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ থাকবে
ঈদের আগে-পরে ৬ দিন মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ থাকবে   ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সংস্থাটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে ও পরে মোট ছয় দিন দেশের মহাসড়কগুলোতে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের আগের তিনদিন এবং ঈদের পরবর্তী তিনদিন—অর্থাৎ ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। মূলত ঈদযাত্রায় যাত্রীবাহী পরিবহনের চাপ বাড়ার কারণে মহাসড়কে যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রতি বছর ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ও বড় শহর থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরেন, ফলে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তবে সব ধরনের পণ্যবাহী যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য, দ্রুত পচনশীল পণ্য, তৈরি পোশাকশিল্পের মালামাল, ওষুধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারবে। এসব খাতের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিশেষ ছাড় দিয়েছে, যাতে বাজারে পণ্যের সংকট বা সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন না ঘটে।

বিআরটিএ আরও জানিয়েছে, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশের দুই পাশে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। রাস্তার পাশে এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করানো হলে যানজট সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে, তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

যান চলাচল স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি, যানজট বা সড়কসংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের হটলাইন নম্বর ১৬১০৭ ছাড়াও ০১৫৫০০৫১৬০৬ এবং ০১৫৫০০৫৬৫৭৭ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই সাময়িক বিধিনিষেধ কার্যকর হলে ঈদকে ঘিরে মহাসড়কে যাত্রী চলাচল আরও স্বস্তিদায়ক হবে এবং দীর্ঘ ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি পরিবহন মালিক, চালক ও সাধারণ জনগণকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সবাই নিরাপদে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারেন।