রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমসের কার্যালয় থেকে সেনাসদস্যরা ২১ সংবাদকর্মীকে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমটির কর্মীরা। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় নিয়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলছেন, গণমাধ্যমের কার্যালয়ে ঢুকে সংবাদকর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী।
বাংলাদেশ টাইমসের মোবাইল জার্নালিজমের এডিটর–ইন–চিফ সাব্বির আহমেদ রবিবার বলেন, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক নারীর বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও ফুটেজ তাঁরা রিলস আকারে প্রকাশ করেছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে ওই দিন বিকেলে উত্তরা সেনা ক্যাম্পের কন্ট্রোল রুম থেকে ফোন করে তাঁকে ক্যাম্পে যেতে বলা হয়। তখন তিনি বলেন, সাংবাদিকদের এভাবে ক্যাম্পে ডাকা যায় না। আইএসপিআরকে বলুন, তারা যোগাযোগ করবে। এরপর তাঁরা নিজেরাই রিলসটির প্রচার বন্ধ করে দেন।
সাব্বির আহমেদ বলেন, এরপর রাত সাড়ে নয়টার দিকে সেনাসদস্যরা খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় তাঁদের কার্যালয়ে এসে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তাঁরা ২১ কর্মীকে গাড়িতে তুলে নিয়ে উত্তরার সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। তিনি রাত পৌনে ১০টার দিকে অনলাইনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় পোস্ট দিয়ে জানান, বাংলাদেশ টাইমস অফিস ঘেরাও করে সাংবাদিকদের তুলে নিয়ে গেছেন সেনাসদস্যরা। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে লাইভে এসে একই কথা বলেন সাব্বির।
সেনা ক্যাম্পে যাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ভিডিও এডিটর আল মামুন। তিনি বলেন, তাঁদের হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের উল্টো দিকে সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হলে তাঁরা আতঙ্কিত ও বিচলিত হয়ে পড়েন। তাঁদের সবাইকে লাইনে দাঁড় করিয়ে ফোন, ঘড়ি নিয়ে নেন সেনাসদস্যরা। কিছুক্ষণ পর একজন এসে ওই রিলসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে ১৬ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে পরে একজন সেনা কর্মকর্তা এসে ভালোভাবে কথা বলেন।
সেনাপ্রধানকে নিয়ে একজন নারীর বক্তব্যসংবলিত রিলসটি তিনি দেখান এবং এ বিষয়ে জানতে চান। শাহবাগে ওসমান হাদি হত্যার বিচার চেয়ে আয়োজিত কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের সময় একজন নারী সেনাপ্রধান সম্পর্কে ওই মন্তব্য করেছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা বলেন, ঘটনাটির সমাধান হয়ে গেছে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল–বোঝাবুঝির আর কিছু নেই।
সংবাদকর্মীদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি রোববার এক অনুষ্ঠানে বলেন, গণমাধ্যমের কার্যালয় থেকে তুলে নেওয়া অগ্রহণযোগ্য।
যে যুক্তিতেই এটা করা হোক, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এভাবে সাংবাদিকদের তুলে নেওয়া মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য মধ্যযুগীয় সহিংসতার দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ‘কোনো সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে তার জন্য যথাযথ পদ্ধতি আছে। পরে ওই সাংবাদিকদের ফেরত পাঠানো হলেও এর মাধ্যমে পুরো গণমাধ্যমের ওপর ভীতিমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টির কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ যেকোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকবে, সেটাই আমরা চাই।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!