নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেরছন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক বেশি চমৎকার ও শান্তিপূর্ণ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি ও কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আনোয়ারুল ইসলাম।
একইসঙ্গে একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট করে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, কোনোভাবেই তিন দিন নয়, বরং ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, শঙ্কার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন নিয়ে যত শঙ্কা ছিল, সেগুলো আমরা সবার সহযোগিতায় ইতোমধ্যে কাটিয়ে উঠেছি। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারব। বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতে যত নির্বাচন হয়েছে, সবগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচনী পরিবেশ অনেক ভালো।
রোববার থেকে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সব বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ১১ থেকে ১২ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। অতীতের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে এবং কমিশনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হবে।
আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি আসনে একাধিক মনিটরিং টিম থাকবে। প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর তথ্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলে পাঠানো হবে। এ ছাড়া যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ঠেকাতে কাজ করবে একটি বিশেষ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং সেল।
একই দিনে গণভোট ও সংসদ নির্বাচন হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের আশঙ্কা করা হচ্ছে কি না– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফলাফল দেওয়া। এমনকি পুরো ১৩ তারিখও লাগার কথা নয়। আধুনিক অটোমেশন সিস্টেম ও একাধিক ডিভাইস ব্যবহারের কারণে ফলাফল দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তবে দুর্গম এলাকার কারণে কিছু কেন্দ্রে সামান্য দেরি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রসঙ্গে এই কমিশনার জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে এবং ইতোমধ্যে অধিকাংশ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ভোটারদের নিরাপত্তা, বিশেষ করে নারী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। কোনো ধরনের হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না।
নির্বাচনের দিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাজ প্রসঙ্গে কমিশনের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। কোনো সাংবাদিককে বাধা দেওয়া বা হয়রানি করা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। আপনারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। আসুন, সবাই মিলে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিই।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!