রাঙামাটি শহরের কাছেই ফুরোমন পাহাড়। শহরের একেবারে কাছে হওয়ায় পাহাড়ের চূড়া থেকে কাপ্তাই লেকের সূর্যোদয় দেখতে নিয়মিতই ভিড় করেন পর্যটকেরা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সূর্যোদয় দেখতে আসা পর্যটকদের জন্য সেই সকাল রূপ নেয় আতঙ্কের অভিজ্ঞতায়।
ভুক্তভোগী পর্যটকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালবেলা হঠাৎ কয়েকজন সশস্ত্র পাহাড়ি ব্যক্তি সেখানে হাজির হন। তাঁরা পর্যটকদের ঘিরে ধরে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, হুমকি ও শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে পর্যটকদের কান ধরে ওঠবস করানো হয় এবং ভবিষ্যতে সেখানে আর না আসার ‘অঙ্গীকার’ আদায় করা হয়। এরপর পর্যটকদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ কেড়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মোবাইল ফোনগুলো পরীক্ষা করে কিছু ফোন ফেরত দেওয়া হলেও কয়েকজনের ফোন আর ফেরত দেওয়া হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী কয়েকজন থানায় গিয়ে অভিযোগ জানাতে চাইলে পুলিশ মামলা না নিয়ে মোবাইল হারানোর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলে— এমন অভিযোগও করেছেন পর্যটকরা।
পর্যটকদের হুমকি দেওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেন, ফুরোমন পাহাড় একটি ধর্মীয় স্থান, এটি কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়। তাই এখানে আর আসা যাবে না।
তবে এ দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির, বান্দরবানের স্বর্ণ মন্দির, রাজ বনবিহার, পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্য কুটিরসহ বহু স্থান—দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত। এসব মন্দিরে ভ্রমণে সাধারণত কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ভ্রমণকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা সাধারণত পর্যটকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করেন।
ফুরোমন পাহাড়ে থাকা বৌদ্ধ স্থাপনাটিও খুব বড় বা পরিচিত কোনো মন্দির নয় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। ফলে ‘ধর্মীয় স্থান’ দেখিয়ে পর্যটকদের এভাবে হেনস্থার বিষয়টি স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন অনেকে।
এ দিকে আরটিএনএনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফুরোমন পাহাড়ের পাশের এলাকায় ইউপিডিএফের একটি আস্তানা রয়েছে। সেখান থেকেই নতুন রিক্রুটদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দেয় সংগঠনটি। সম্প্রতি কাউখালীসহ আশপাশের এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘাত চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউপিডিএফের পক্ষ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, পর্যটকের ছদ্মবেশে প্রতিপক্ষের লোকজন এলাকায় এসে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
সে সন্দেহ থেকেই পর্যটকদের সেখানে যাতায়াত বন্ধ করতে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই দিন সেখানে উপস্থিত পর্যটকদের সবাই বাইরের জেলা থেকে আসা ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও চাকমা সম্প্রদায়ের সদস্যও ছিলেন। সূত্রগুলো বলছে, সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মূলত স্থানীয়রাই।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনই ভিডিওটি ধারণ করে পরে তা প্রকাশ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সেখানে আর কোনো পর্যটক না যায়।
তবে এই ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা আসেনি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!