৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আবদ্ধ সৌদি ও সিরিয়া, চাঙা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি
৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগে আবদ্ধ সৌদি ও সিরিয়া, চাঙা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন যুগে পা রাখল সৌদি আরব ও সিরিয়া। বিমান চলাচল, টেলিযোগাযোগ ও পানিসহ সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ৫.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পাঁচটি বড় চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহর উপস্থিতিতে দামেস্কের পিপলস প্যালেসে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ প্রসারে এই বড় উদ্যোগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিরিয়ান ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির প্রধান তা’লাল আল-হিলালি জানান, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ খাতে কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষে উভয় পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো ও ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে এক নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা হবে।
সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ সিরিয়ার পুনর্গঠন, প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথে সৌদি আরবের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বড় প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে ‘এলাফ ফান্ড’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ব্যাংকিং লেনদেন চ্যানেল পুনরায় চালুর কথা জানান।

সিরিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আবদুলসালাম হায়কাল জানান, নিজেদের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক ডেটা ট্রানজিট করিডোর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কৌশল নিয়েছে সিরিয়া। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সিল্ক লিংক’ প্রকল্পের মাধ্যমে সিরিয়া বৈশ্বিক সংযোগের অন্যতম শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হবে।

সিরিয়ান সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রধান ওমর আল-হুসরি দুটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি আলেপ্পো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও পরিচালনার বিষয়ে, অন্যটি ‘নাস সিরিয়া’ নামে একটি নতুন স্বল্পব্যয়ী জাতীয় বিমান সংস্থা প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সিরিয়া পুনরায় আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নেটওয়ার্কে শক্তিশালী অবস্থানে ফিরবে।

চুক্তিগুলোর আওতায় সিরিয়ার পানি বিশুদ্ধকরণ ও স্থানান্তর ব্যবস্থার উন্নয়নে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হবে। একইসঙ্গে সিরিয়াকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংযোগের কেন্দ্রে পরিণত করতে দেশটির টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে; যার মধ্যে রয়েছে ফাইবার-অপটিক কেবল সম্প্রসারণ ও আধুনিক ডেটা সেন্টার স্থাপন।

চুক্তিগুলোর আওতায় আধুনিক সিরিয়ান কেবলস কোম্পানি পরিচালনা ও উন্নয়ন, জাতীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্মের আধুনিকায়ন এবং উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একইসঙ্গে সিরিয়ান ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ও সৌদি ডেভেলপমেন্ট কমিটির সমন্বয়ে ৪৫টি যৌথ উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ সৌদি দৈনিক আশারককে জানান, নতুন স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মোট মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন সৌদি রিয়াল (৫.৩ বিলিয়ন ডলার)। এর আগে সম্পাদিত ৪০ বিলিয়ন রিয়ালের সমঝোতা মিলিয়ে সিরিয়ায় মোট সৌদি বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০ বিলিয়ন রিয়াল বা ১৬ বিলিয়ন ডলারে। আল-ফালিহর মতে, এই বিশাল বিনিয়োগ সিরিয়ায় সৌদি আরবের আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

এর আগে শনিবার সৌদি বিনিয়োগমন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দল দামেস্কে পৌঁছায়। এই প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সৌদি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল-স্বাহা, সিভিল এভিয়েশন অথরিটির প্রধান আবদুলআজিজ আল-দুয়াইলেজ সহ শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা।

সূত্র: আনাদোলু।

রায়হান/আরটিএনএন