চট্টগ্রামের আলোচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত ভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থা ও র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (জেলা ও দায়রা জজ) মো. জাহিদুল হক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এর আগে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে পুলিশ প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় আদালত ভবনের মূল প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন। এ সময় আইনজীবী, আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংবাদমাধ্যমকর্মীরা পরিচয়পত্র দেখিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। পরে সেনাবাহিনীর একটি টহল দল আদালত এলাকায় পৌঁছে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেফতার করেন। পরদিন তাকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইসকন অনুসারীরা বিক্ষোভে নামেন। বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আদালত এলাকা ও আশপাশে মসজিদ, দোকানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালান। ২৬ নভেম্বর বিকেলে আদালতের প্রধান ফটকের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন হলের গলিতে একদল ইসকন অনুসারীর হামলায় প্রাণ হারান আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ নভেম্বর রাতে নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান । তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় তিনজনের অব্যাহতির আবেদন করা হয়। পাশাপাশি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ নতুন করে আরও ১০ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালত শুনানি শেষে মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!