বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্গম সংসদীয় আসনগুলোর একটি বান্দরবান (আসন–৩০০)। পাহাড়, বন আর বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর এই জেলায় ভোট দেয়া এখনো অনেক বাসিন্দার জন্য সহজ নয়। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ সংকটের কারণে বহু ভোটারকে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হেঁটে পাড়ি দিতে হয় দীর্ঘ পথ।
সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বান্দরবান জেলায় মোট ভোটার ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬৭ জন।
এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে প্রায় ১৮৬–১৮৭টি। এর মধ্যে ১৫৮টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। সবচেয়ে দুর্গম ১১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠাতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব এলাকায় ভোটারদের অনেক সময় ৮ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাহাড়ি পথ হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হয়।
রুমা উপজেলার কাপ্রুপাড়ার বাসিন্দা সংচাং ম্রো জানান, তাদের ভোটকেন্দ্র পালংমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে যেতে হেঁটে প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। বিকল্পভাবে গাড়িতে জেলা শহর ঘুরে গেলে পথ দাঁড়ায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার।
লামা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া, তাংখুংপাড়া ও মংহ্লাপাড়ার ভোটারদের পরিস্থিতিও একই। মংহ্লাপাড়ার বাসিন্দা লিংপাত ম্রো বলেন, ভোট দিতে তাদের অন্তত ৮ কিলোমিটার হাঁটতে হয়।
জেলার অন্তত তিনটি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ভোটারদের দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হয়। কোথাও আংশিক সড়ক যোগাযোগ থাকলেও ভোটের দিন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। ফলে এসব এলাকায় ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়ে আয়োজিত এক পর্যালোচনা সভায় দুর্গম কেন্দ্রগুলোর সমস্যা গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হয়।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ১১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনায় হেলিকপ্টারে কর্মকর্তা কর্মচারী ও ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পাঠানো হয়। এসব কেন্দ্র ‘হেলিস্টি কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত। সড়ক যোগাযোগ কিছুটা উন্নত হওয়ায় আগের তুলনায় এ ধরনের কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে, একসময় যা ছিল ১৫ থেকে ১৮টি।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, বান্দরবানের ৩৮টি ভোটকেন্দ্র অতিদুর্গম, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। অধিকাংশ কেন্দ্রে সড়ক যোগাযোগ নেই বা সীমিত। আবার প্রায় ৩০টি কেন্দ্রে আংশিক সড়ক থাকলেও ভোটের দিন যানবাহন বন্ধ থাকায় ভোটারদের পুরো পথই হেঁটে যেতে হয়। অন্তত ৫০টি কেন্দ্রে বিদ্যুতের ব্যবস্থাও নেই।
বান্দরবান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম জানান, থানচি, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জেলার সবচেয়ে দূরের ভোটকেন্দ্র বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা থানচি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরে।
জেলা পরিষদের সদস্য রাংলাই ম্রো বলেন, রেমাক্রী ইউনিয়নের বড় মদক কেন্দ্রে ভোট দিতে মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন পানঝিরি, লৈইক্রী ও আন্ধারমানিক এলাকার মানুষদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় আসতে হয়। এতে জনপ্রতি প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। থাকা খাওয়াসহ মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় দুই হাজার টাকা। তিন্দু ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, বান্দরবানে ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে অন্তত ১০টি বড় চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্গম এলাকায় ভোটার আনা, আঞ্চলিক সশস্ত্র তৎপরতা মোকাবিলা এবং বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কবিহীন কেন্দ্রে দ্রুত ফলাফল পাঠানো।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, দুর্গম ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের যাতায়াত সমস্যার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানানো হবে। স্বল্প সময়ে পূর্ণাঙ্গ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন হলেও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় সীমিত পরিসরে যানবাহন চালু রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!