গাজীপুর, সড়ক উদ্বোধন
কাশিমপুরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তার একটি অংশ ভেঙে নিচে ধসে পড়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর এলাকায় একটি নতুন সড়ক উদ্বোধনের আগেই কয়েক ফুট গভীরে ধসে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সঠিক পরিকল্পনা না থাকা, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, তড়িঘড়ি কাজ এবং সিটি কর্পোরেশনের তদারকির অভাবই এই ধসের মূল কারণ।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান।

নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তার একটি অংশ ভেঙে নিচে ধসে যাওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দ্রুত গতিতে রাস্তার ঢালাই কাজ শেষ করা হয়েছিল। তিন দিনের মাথায় ফাটল দেখা দিয়ে পরে অংশটি ধসে যায়। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ফাটল দেখা গেছে, যা পুরো সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ করেছে।

সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ধনঞ্জয়খালী এলাকায় সড়ক উন্নয়নের জন্য দুটি প্যাকেজের আওতায় কাজ হয়েছে। প্যাকেজ-১২ এর অধীনে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়ক নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল সেন্টার লিমিটেড (ইউসিসিএল) কে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়। প্যাকেজ-৫ এর অধীনে ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়ক নির্মাণের প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা, কিন্তু কার্যাদেশ দেওয়া হয় ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং নির্ধারিত পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করা হয়নি। রেলিং, ফুটপাত ও গার্ডওয়ালসহ বিভিন্ন অংশের কাজও তদারকিমূলক ঘাটতি রয়েছে। কাশিমপুর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় ধসের পাশাপাশি আশপাশের অংশেও ফাটল ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর রাস্তা নির্মাণ করা হলেও উদ্বোধনের আগেই ধসে যাওয়ায় আমরা হতাশ। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তি দিতে হবে।

কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, রাস্তা নদীর পাড়ঘেঁষা এলাকায় হওয়ায় প্রাকৃতিক কারণেও ধস হতে পারে। তবে পরিকল্পনার ত্রুটি এবং অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ জানান, সড়ক ধসের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রধান হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক থাকবেন। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়শাস্তি নিশ্চিত হবে।